ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

মাওলানা তৌসিফ রেজাকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত পঙ্কজ লোধি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

প্রকাশ: ১২:১৯, ৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৯, ৯ জুন ২০২৬

মাওলানা তৌসিফ রেজাকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত পঙ্কজ লোধি গ্রেফতার

উত্তরপ্রদেশের বেরেলী জেলায় চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে মাওলানা তৌসিফ রেজা মাযহারীকে হত্যার অভিযোগে অবশেষে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রেল পুলিশ (জিআরপি)।  গ্রেফতার যুবকের নাম পঙ্কজ লোধি (৩০)। দীর্ঘ দুই মাসের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তদন্তের পর পুলিশ এই সাফল্য পেয়েছে।
 

প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষয়টিকে "দুর্ঘটনাজনিত পতন" বলে উড়িয়ে দিতে চাইলেও, পরিবারের দাবি এবং জোরালো প্রমাণের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন অভিযুক্ত পঙ্কজ লোধি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তিনি মাওলানা তৌসিফ রেজার বিরুদ্ধে মিথ্যা মোবাইল চুরির অপবাদ দেন, যা নিয়ে ট্রেনের ভেতরেই দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। ঝগড়া একপর্যায়ে চরম হাতাহাতিতে পৌঁছালে পঙ্কজ মাওলানাকে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ ঢাকার জন্য পঙ্কজ চরম ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিজেকে "আহমেদ"** নামে পরিচয় দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। নিজের আসল পরিচয় লুকাতে এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে নিজের মোবাইল ফোন ও ওয়ালেট ফেলে দেন।
 

প্রায় ২০০টি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং ওই ট্রেনের ২০০ জনেরও বেশি যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর অবশেষে এই জট খোলে।গত ২৬ এপ্রিল বেরেলীতে ‘উরস-ই-তাজুশশরিয়া’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ট্রেনে করে বিহারের কিষাণগঞ্জের বাড়িতে ফিরছিলেন মাওলানা তৌসিফ। তাঁর মৃত্যুর পর পুলিশ একে সাধারণ দুর্ঘটনা বললেও পরিবার তা মানতে নারাজ ছিল।
 

মাওলানার স্ত্রী তাবাসসুমের একটি অডিও বার্তা সামনে আসার পর রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। অডিওতে তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামী মৃত্যুর কিছু আগে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে ট্রেনে তাঁর ওপর কয়েকজন চড়াও হয়েছে এবং মারধর করছে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের  রিপোর্টেও মাওলানার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা হত্যা মামলার ভিত্তি আরও মজবুত করে। পরিবারের লিখিত অভিযোগের পরই পুলিশ নড়েচড়ে বসে।
 

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 'জায়ামাত রেজা-ই-মুস্তফা' নামক ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে এই গ্রেফতারিকে স্বাগত জানানো হলেও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে।সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ফরমান মিয়া বলেন, "এটি কেবল একজন মানুষের মৃত্যু নয়, বরং ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তার ওপর এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন। রেল কর্তৃপক্ষের উচিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যাতে ভবিষ্যতে কোনো নিরপরাধ মানুষকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।"
 

রেল পুলিশ জানিয়েছে, পঙ্কজ লোধিকে গ্রেফতার করা হলেও তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না।  গ্রেফতার আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো সহযোগী বা উস্কানিদাতা জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত যত এগোবে, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন