ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ১০ রমজান ১৪৪৭

রেল প্রকল্পের মানবিক সংকট: অর্থাভাবে চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ গেল গেইটকিপারের

প্রকাশ: ১১:২৪, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১১:২৪, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

রেল প্রকল্পের মানবিক সংকট: অর্থাভাবে চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ গেল গেইটকিপারের

সেলিমুর রহমান :

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল লেভেল ক্রসিং মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের এক গেইটকিপার মোঃ আবু সালেহ (লাকশাম সেকশন) অর্থাভাবে চিকিৎসা না করাতে পেরে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তিনি গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ রাত ১১টা ৩৪ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

জানা যায়, রাজস্ব অনিশ্চয়তা ও টানা চার মাসের বেতন বন্ধ থাকায় অর্থকষ্টে ভুগছিলেন এই প্রকল্পের বহু শ্রমিক। এর মধ্যেই চিকিৎসার অভাবে অকালে প্রাণ হারালেন আবু সালেহ।বাংলাদেশ রেলওয়ের “লেভেল ক্রসিং মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প”-এর আওতায় ১,৫০৫ জন গেইটকিপার দীর্ঘ আট বছর ধরে কাজ করছেন। প্রকল্পটির মেয়াদ প্রথমে দুই বছরের হলেও বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে বর্তমানে আট বছর পূর্ণ হয়েছে। তবুও এখনো তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গেইটকিপারদের অভিযোগ,

“আমরা সাপ্তাহিক, মাসিক এমনকি বাৎসরিক ছুটিহীনভাবে ৩৬৫ দিন কাজ করি। কখনো কখনো ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা একটানা ডিউটি দিতে হয়। অথচ বেতন বন্ধ থাকে মাসের পর মাস, সুযোগ-সুবিধা নেই কোনো।”শ্রমিকদের দাবি, রাজস্ব বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও বাস্তবে কোনো সমাধান আসেনি। ইতিমধ্যে প্রায় ১১–১২ জন গেইটকিপার আত্মহত্যা বা স্ট্রোক করে মারা গেছেন বেতন ও অনিশ্চয়তার কারণে।

তারা বলেন,

“৮ বছর ধরে ১৪,৪৫০ টাকা বেতনে কাজ করছি। জীবনের সব আশা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন রাজস্ব না হলে পরিবার নিয়ে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

প্রয়াত গেইটকিপার আবু সালেহ ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তিনি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু আর্থিক সংকট ও চিকিৎসার অভাবে অকালে চলে যেতে হলো তাঁকে।প্রকল্পের গেইটকিপাররা শোকাহত সহকর্মীর মৃত্যুর জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আমলাদের দায়ী করেছেন। তারা বলেন—

“রাজস্বের ফাইল আটকে রেখে আমলারা শ্রমিকদের জীবন নিয়ে খেলছে। আমরা এই বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাই।”

এ অবস্থায় শ্রমিকদের দাবি, অবিলম্বে প্রকল্পের রাজস্ব বাস্তবায়ন, বকেয়া বেতন পরিশোধ ও স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে, অন্যথায় তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ও আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন