ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ১০ রমজান ১৪৪৭

ইঞ্জিন সংকট ও পুরোনো বহরের চাপে পাকিস্তান রেলওয়ে, যাত্রীসেবা ব্যাহত

প্রকাশ: ০৯:৩৮, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৩৮, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইঞ্জিন সংকট ও পুরোনো বহরের চাপে পাকিস্তান রেলওয়ে, যাত্রীসেবা ব্যাহত

আন্তর্জাতিক :

ইঞ্জিন সংকট ও পুরোনো বহরের কারণে চরম চাপে পড়েছে পাকিস্তান রেলওয়ে। দেশটির রেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তান রেলওয়ের মোট লোকোমোটিভের ৬৩ শতাংশেরও বেশি ২০ বছরের বেশি পুরোনো। এর ফলে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা বেড়ে গেছে এবং নিয়মিত ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন (Dawn)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতীয় পরিষদের রেলওয়ে বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেলওয়ে কর্মকর্তারা এই তথ্য উপস্থাপন করেন। বৈঠকে জানানো হয়, পুরোনো ইঞ্জিনের কারণে যাত্রীসেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—যা অনেকাংশেই বাংলাদেশের বর্তমান রেল পরিস্থিতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সংকট মোকাবিলায় ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ওভারহল ও আধুনিক করার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে যাত্রী কোচের মান নিয়েও আলোচনা হয়। অনেক কোচে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার কারণ হিসেবে পুরোনো এসি ইউনিটকে দায়ী করা হয়েছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব এসি ইউনিট পরিবর্তনের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।কোচ সংকটের ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে পাকিস্তান রেলওয়ে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে যাত্রী কোচের যে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তা কর্মশালার দক্ষতা বৃদ্ধি ও মেরামতাধীন কোচ দ্রুত ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় কোচের সংখ্যা কিছুটা বেশি রয়েছে বলেও জানানো হয়।

আর্থিকভাবে কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে সংস্থাটি। পাকিস্তান রেলওয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৪৮.৮৩২ বিলিয়ন রুপি যাত্রী আয় করেছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান রেলওয়ের বর্তমান সংকট বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবতার সঙ্গেও অনেকটাই মিল রাখে। পুরোনো ইঞ্জিন, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, কোচ ও এসি সমস্যার মতো চ্যালেঞ্জ দুই দেশের রেল ব্যবস্থাকেই চাপের মুখে ফেলছে। তাদের মতে, টেকসই আধুনিকীকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন