ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ১০ রমজান ১৪৪৭

যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে শৈশব, পরিত্যক্ত ট্রেনেই স্বপ্ন আঁকছে ইউক্রেনের শিশুরা

প্রকাশ: ০৯:৫৪, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫৪, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে শৈশব, পরিত্যক্ত ট্রেনেই স্বপ্ন আঁকছে ইউক্রেনের শিশুরা

আন্তর্জাতিক :

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে শিশুদের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি, স্কুল ও স্বাভাবিক শৈশব হারিয়ে বহু শিশু আশ্রয় নিয়েছে পরিত্যক্ত ট্রেন ও রেলবগিতে। দেশটির বিভিন্ন শহরের রেলইয়ার্ডে পড়ে থাকা পুরোনো ট্রেনগুলোই এখন তাদের অস্থায়ী ঠিকানা, যেখানে বসেই তারা বেঁচে থাকার পাশাপাশি একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করলে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর টানা হামলা, গোলাবর্ষণ ও বিমান আক্রমণে ইউক্রেনের বহু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধের ফলে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ট্রেনযোগে দেশটির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াতে বাধ্য হয়। কোথাও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় কিংবা ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বহু শিশু পরিত্যক্ত ট্রেনেই রাত কাটাচ্ছে।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের শিশুদের বড় একটি অংশ শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীন পরিবেশে বসবাস করায় তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিত্যক্ত ট্রেনের বগিতে বসে কেউ বই হাতে পড়াশোনার চেষ্টা করছে, কেউ আবার জানালার ফাঁক দিয়ে শান্ত আকাশ দেখার স্বপ্ন আঁকছে—যা তাদের হারিয়ে যাওয়া শৈশবের নীরব প্রতিচ্ছবি।

বর্তমানে যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সহিংসতা থামেনি। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় বহু পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে পারছে না। বিশেষ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

পরিত্যক্ত ট্রেনের অন্ধকার বগিতে বসে থাকা ইউক্রেনের এসব শিশুই আজ যুদ্ধের সবচেয়ে নীরব শিকার। শান্তি ফিরে এলে তারাই আবার নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছে—একটি নিরাপদ দেশ, একটি স্কুল আর স্বাভাবিক শৈশবের আশায়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন