প্রকাশ: ০৮:৩৮, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৩৮, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক :
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রোববার (স্থানীয় সময়) কর্দোবা প্রদেশের আদামুজ এলাকায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে।
স্পেনের রেল অবকাঠামো সংস্থা আদিফ (Adif) জানায়, মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি উচ্চগতির ট্রেন আদামুজ এলাকার কাছে লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত লাইনে উঠে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি উচ্চগতির ট্রেনের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর উভয় ট্রেনই লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।
প্রথমে নিহতের সংখ্যা পাঁচ জন বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ২১ জনে উন্নীত করা হয়। আন্দালুসিয়া অঞ্চলের শীর্ষ জরুরি কর্মকর্তা আন্তোনিও সান্জ জানান, অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। তবে স্পেনের গণমাধ্যমগুলোর দাবি, আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়াতে পারে। দুর্ঘটনার পর বেশ কিছু যাত্রী বগির ভেতরে আটকা পড়েন।
কর্দোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিস্কো কারমোনা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলো মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। উদ্ধারকাজে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। আহতদের কাছে পৌঁছাতে কখনো কখনো মৃতদেহ সরিয়েও উদ্ধারকাজ চালাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা একাধিক যাত্রী জানান, সংঘর্ষটি ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়েছিল। অনেক যাত্রী জরুরি হাতুড়ি ব্যবহার করে জানালা ভেঙে ট্রেন থেকে বেরিয়ে আসেন। এক যাত্রী বলেন, ঘটনাস্থলটি যেন কোনো ভয়াবহ হরর সিনেমার দৃশ্যের মতো ছিল।
স্পেনের গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে মোট প্রায় ৪০০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার কর্দোবা, সেভিল, মালাগা ও হুয়েলভা শহরের মধ্যে উচ্চগতির ট্রেন চলাচল অন্তত একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিহত ও আহতদের স্বজনদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন রেলস্টেশনে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইউরোপের মধ্যে স্পেনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বড়। দেশটিতে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি উচ্চগতির রেললাইন রয়েছে, যা বিভিন্ন বড় শহরের সঙ্গে রাজধানী মাদ্রিদকে সংযুক্ত করেছে।