শিরোনাম
প্রকাশ: ২০:২৫, ৭ জুলাই ২০২৬
রাজবাড়ীর কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানো চটপটি বিক্রেতা মুন্নু শেখকে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন তার কার্যালয়ে মুন্নু শেখের হাতে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা তুলে দেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে চটপটি বিক্রেতা মুন্নু শেখের ব্যতিক্রমী এই মানবিক উদ্যোগের খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে কালুখালী উপজেলা প্রশাসনের। মুন্নু শেখের নিঃস্বার্থ মানবসেবায় মুগ্ধ হয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
মুন্নু শেখ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের মোবারক শেখের ছেলে।
প্রতিদিন দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী 'নকশিকাঁথা' মেইল ট্রেন রাজবাড়ীর কালুখালী রেলস্টেশনে থামতেই শোনা যায়– 'টাকা ছাড়া ঠান্ডা পানি... টাকা ছাড়া কলের ঠান্ডা পানি'। প্রথম দেখায় যে কেউ তাকে হকার ভাববেন, কিন্তু নাহ, তিনি আসলে একজন হতভাগ্য বাবা। দূরারোগ্য ব্লাড ক্যানসারে ১০ বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখকে হারিয়ে গত ৪ বছর ধরে এভাবে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করিয়ে যেন হারানো সন্তানকে খুঁজে পান মুন্নু শেখ।
পেশায় তিনি একজন চটপটি বিক্রেতা হলেও যাত্রীদের তৃষ্ণা মেটাতে দুপুরে ট্রেন কালুখালী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই দোকান বন্ধ করে বালতিতে পানি নিয়ে হাজির হন প্ল্যাটফর্মে। ট্রেন থামা মাত্রই যাত্রীদের হাতে তুলে দেন টিউবওয়েলের ঠান্ডা পানির বোতল। বিনিময় চান শুধু দোয়া ও ভালবাসা।
২০১৮ সালে মুন্নু শেখের ১০ বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। তখন ছেলেকে চিকিৎসা করাতে নিয়মিত এই ট্রেনে করে তিনি খুলনা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতেন। চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে অনেক সময় অসুস্থ ছেলেকে এক বোতল পানি কিনে দেবার মতো টাকা থাকতো না তার পকেটে। দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২০ সালে ক্যান্সারের কাছে হার মানে সবুজ। সন্তানের মৃত্যুতে মুন্নু শেখ ভেঙে পড়েলেও দমে যাননি। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যতোদিন বেঁচে থাকবেন, 'নকশিকাঁথা' মেইল ট্রেনের কোনো তৃষ্ণার্ত যাত্রীকে পানির কষ্ট পেতে দেবেন না।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মুন্নু শেখের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তিনি কোনো স্বার্থের জন্য নয়, শুধু মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষও যদি তার পাশে দাঁড়ান, তাহলে তিনি আরও ভালোভাবে এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।