শিরোনাম
মো: মোতাহার হোসেন সরকার
প্রকাশ: ২০:৪৮, ৯ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের কোচ বা রেক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আমদানিকৃত কোরিয়ান কোচ যুক্ত করার মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
আজ সোমবার (০৯ মার্চ ২০২৬) সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মহাপরিচালকের কার্যালয়, ঢাকার পত্র নং ৫৪.০১.২৬০০.০০৮.১৮.০১২.১৬ (অংশ-২)-৭৯, তারিখ ০৮ মার্চ ২০২৬ অনুসারে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এর আগে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সর্বশেষ কোরিয়ান রেকের চালান বাংলাদেশে পৌঁছে এবং পরে তা বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নতুন কোরিয়ান কোচ দিয়ে ৭৪১/৭০৪ ট্রেন (তুর্না/মহানগর প্রভাতী)-এর রেক পুনর্বিন্যাস করা হবে। এই ট্রেনের অবমুক্ত রেক ব্যবহার করে (৭২১/৭২২) মহানগর এক্সপ্রেসের রেক পরিবর্তন করা হবে। একইভাবে মহানগর এক্সপ্রেসের অবমুক্ত রেক দিয়ে সৈকত এক্সপ্রেস (৮২১/৮২২) ও প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২৩ ও ৮২৪) নম্বর ট্রেনের রেক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন কোরিয়ান কোচ যুক্ত করে ৭৪১/৭০৪ নম্বর ট্রেন ০৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে পরিচালিত হবে। আর এই ট্রেনের অবমুক্ত রেক দিয়ে ৭২১/৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে পরিচালনা করা হবে।
কোচ পরিবর্তনের ফলে ট্রেনগুলোর আসন সংখ্যাতেও পরিবর্তন আসছে। তূর্ণা/মহানগর প্রভাতী (৭৪১/৭০৪) ট্রেনে রাতে ৭৪১টি এবং দিনে ৭৯৭টি আসন থাকবে। অন্যদিকে মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১/৭২২) মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে রাতে ৭০৬টি এবং দিনে ৭৩৬টি আসনের ব্যবস্থা থাকবে।
এদিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী সৈকত/প্রবাল এক্সপ্রেসও কোচ পরিবর্তনের সুবিধা পাচ্ছে। শুরুতে এই ট্রেনটি ঈদ স্পেশাল হিসেবে চালু হলেও যাত্রীদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও চাহিদার কারণে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সৈকত/প্রবাল এক্সপ্রেস নামে বাণিজ্যিকভাবে নিয়মিত যাত্রা শুরু করে। এতদিন এটি ভ্যাকুয়াম রেক দিয়ে পরিচালিত হলেও এখন সেই কোচ পরিবর্তন করে লাল-সবুজ পিটি ইনকা কোচ যুক্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ইঞ্জিন ও ক্রু সরবরাহ, কোচ সার্ভিসিং, টিকিট বিক্রি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। স্টেশন ম্যানেজার ও স্টেশন মাস্টারদের স্থানীয় যাত্রীদের এই পরিবর্তনের বিষয়ে অবহিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।