ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

২২ আষাঢ় ১৪৩৩

কমলাপুরে বে আইনী ভাবে যায়গা লীজ দিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে!!

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:১৮, ৬ জুলাই ২০২৬

কমলাপুরে বে আইনী ভাবে যায়গা লীজ দিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে!!

কমলাপুরে বে আইনী ভাবে যায়গা লীজ দিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।  নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের পর হাতের ডান দিকে যাত্রীদের বসার জন্য যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে। যেখানে অনেকগুলো গাছ রয়েছে। যেখানে যাত্রীরা স্বাচ্ছ্যন্দে বিশ্রাম করতে পারে। সেই যায়গাটির একটি অংশ আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ বর্গফুট যায়গা (বাস্তবে পুরো যায়গাটি) লীজ দেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।  
বাংলাদেশ  রেলওয়ে ভূসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২০ আইনের তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশ রেলওয়ে অতি গোপনে এটি দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। 
অন্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইতিমধ্যে লীজ দেয়া হয়েও গেছে এবং রেলওয়ের দুই মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে এই কাজটি করা হতে পারে।যদিও দুই মন্ত্রীর কেউ এই বিষয়ে অবগত নয়।
রেলনিউজ একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন এক অজানা আশংকায় কেউ মুখ খুলছে না। 
আইন অনুযায়ী, এই ভুমিটি  ২০(ক)  শ্রেনীর ভূমি। এটি রেলওয়ের অপারেশনাল কাজে ব্যবহৃত ভূমি। ২১(ক) ধারা  অনুযায়ী এই ভূমি কোন অবস্থাতেই লাইসেন্সযোগ্য/হস্তান্তর যোগ্য না। 
যদি হস্তান্তরযোগ্য ভূমি হয়েও থাকে তবে তা ২২(ক) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় রেলভূমি বরাদ্দ কমিটি করে লাইসেন্স দিতে হবে। এবং ২৩ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক কর্তৃক মাস্টার প্লানভুক্ত করে লাইসেন্স বা লীজ দিতে হবে। 
আর মাস্টারপ্ল্যানভুক্ত ভূমি বিভাগীয় ভূ সম্পত্তি দপ্তরের মাধ্যমে সিডিউল তৈরি করে ইজিপি টেন্ডারিং এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ১ সনা মেয়াদি লাইসেন্স বা লীজ প্রদান করতে পারবে। 
পুরো আইনী ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে একতরফা ভাবে অতি গোপনে লীজ প্রক্রিয়া চলছে বা শেষ হয়েছে। এমনটাই নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। 
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মূল স্থপতি ড্যানিয়েল ডানহাম এবং বব বুই ঐতিহাসিক এই স্টেশনটির মূল নকশায় স্টেশন চত্বরে বিস্তর ফাঁকা জায়গা বা প্লাজা রেখেছিলো। মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ায় বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা, বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ভবনের স্থাপত্যশৈলীতে নান্দনিক উন্মুক্ত রূপ ফুটিয়ে তুলতেই এই মুক্ত স্থানগুলো রাখা হয়েছিল।  
মূলত এই নকশার তোয়াক্কা না করেই  বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কমলাপুরে বিভিন্ন  অপরিকল্পিত স্থাপনা করেছে। যা শুধু দৃষ্টিকটু নয় পুরো স্টেশন ব্যবস্থাপনার সাথে সাংঘর্ষিক। 
এ ব্যাপারে বিভাগীয় ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহাকে ফোন দিলে তিনি বলেন এটি স্টেশনের যায়গা তাই এটাতে আমার কোন এখতিয়ার নেই। এটা সিসিএম এর এখতিয়ারে পরে। 
পূর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রেসপন্স করেননি। পরবর্তীতে এই নিউজের ব্যাপারে তার বক্তব্য পেলে যুক্ত করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন