ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

২২ চৈত্র ১৪৩২, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৭

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে এসি বগি: পর্যটকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

সেলিমুর রহমান

প্রকাশ: ১২:৪২, ৪ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে এসি বগি: পর্যটকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

চলাচলের শুরুর এক বছর পর অবশেষে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগি পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন। যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা এবং আরামদায়ক ভ্রমণের কথা বিবেচনায় নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই দুটি ট্রেনে এসি আসন ও কেবিন যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে এই রুটে নিয়মিত দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করলেও সেগুলোতে এসি সুবিধা না থাকায় যাত্রীদের সাধারণ বগিতেই যাতায়াত করতে হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকদের এই রুটে ভ্রমণে অনাগ্রহ তৈরি করছিল।রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের আন্তনগর ট্রেনগুলোর মানোন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে। এখন এসি বগি না থাকায় যাতায়াতে যাত্রীদের আগ্রহ কিছুটা কম থাকলেও নতুন বগি যুক্ত হলে চিত্র বদলে যাবে। রেলওয়ে পরিবহন বিভাগের তথ্যমতে, সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসের বর্তমান ১৬টি পুরোনো বগি বদলে আধুনিক কোচ স্থাপন করা হবে। নতুন বিন্যাসে প্রতিটি ট্রেনে একটি এসি কেবিন, একটি নন-এসি কেবিন, তিনটি এসি চেয়ার বা স্নিগ্ধা এবং আটটি শোভন চেয়ার থাকবে। এ ছাড়া পাওয়ার কার ও গার্ড ব্রেকসহ প্রতিটি ট্রেনে প্রায় সাড়ে সাতশ আসনের ব্যবস্থা থাকবে।রেলওয়ে সূত্র জানায়, এই রুটে নতুন করে যুক্ত হতে যাওয়া বগিগুলো মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেস থেকে অবমুক্ত করা। সম্প্রতি মহানগর এক্সপ্রেসে কোরিয়া থেকে আনা নতুন কোচ সংযোজন করায় সেখান থেকে ইন্দোনেশিয়ান কোচগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা এখন কক্সবাজার রুটে ব্যবহৃত হবে। যদিও কবে নাগাদ এই নতুন বগিগুলো নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু করবে তার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে রেলওয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন যে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি দ্রুত কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে।
​বর্তমানে একটি রেক দিয়েই এই দুই জোড়া ট্রেন দৈনিক চারবার আসা-যাওয়া করে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সোমবার বাদে প্রতিদিন ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে সৈকত এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় এবং কক্সবাজার থেকে সকাল ১০টায় প্রবাল এক্সপ্রেস হয়ে ফিরে আসে। পুনরায় দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে প্রবাল এক্সপ্রেস হিসেবে কক্সবাজার গিয়ে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সৈকত এক্সপ্রেস নামে চট্টগ্রামে ফিরে আসে। যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বললেও সময়ানুবর্তিতা ও টিকিট ব্যবস্থাপনা উন্নত করাকে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন