ঢাকা, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

২০ আষাঢ় ১৪৩৩

দর্শনা রেলবন্দরে আমদানির পালে হাওয়া, গতি ফিরল অর্থনীতিতে

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:২৪, ৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৯:২৫, ৪ জুলাই ২০২৬

দর্শনা রেলবন্দরে আমদানির পালে হাওয়া, গতি ফিরল অর্থনীতিতে

ডলার সংকট ও এলসি (ঋণপত্র) জটিলতা কাটিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকার পর এই রেল ইয়ার্ডে ফিরতে শুরু করেছে আগের সেই চেনা কর্মব্যস্ততা। মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে এই রুট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংকট কাটিয়ে সচল এলসি: ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেশ কিছুদিন ডলার সংকট ও এলসি জটিলতার কারণে আমদানি স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী এলসি অনুমোদন করায় সয়াবিন, ভুসি, পাথর, পেঁয়াজ ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।শনিবার (২৭ জুন) পর্যন্ত দর্শনা রেল ইয়ার্ডে ২০টি মালবাহী রেক (ট্রেনের বগি সমষ্টি) খালাস করা হয়েছে। মাস শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়ার্ডজুড়ে শ্রমিকদের ব্যস্ততা: সরেজমিনে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল ইয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা ওয়াগনগুলো থেকে দ্রুত পণ্য খালাস করে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। এরপর সেসব পণ্য চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী শাহিন পারভেজ জানান, পণ্য আমদানিতে এখন আর কোনো বড় সমস্যা নেই। নিয়মিত এভাবে ট্রেন এলে ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন সাধারণ দিনমজুর ও কুলি শ্রমিকেরা।

রাজস্ব ঘুরে দাঁড়ানোর আশা: কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরে এই রুট দিয়ে প্রায় ২০০টি রেকে পণ্য আমদানির মহাপরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছর: ৯,৭৪৯টি ওয়াগনে ৫ লাখ৭৬ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়। রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছর: আমদানি কমে ৪,৪৮৬টি ওয়াগনে (২ লাখ ৫২ হাজার ১০১ মেট্রিক টন) নেমে আসে। ফলে রাজস্ব নেমে যায় মাত্র ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকায়।

তবে চলতি অর্থবছরে আমদানির গ্রাফ যেভাবে ওপরের দিকে উঠছে, তাতে রাজস্ব আদায় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদী কাস্টমস বিভাগ।

যা বলছেন স্টেশন মাস্টার: চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাজমা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর এই রুটে মালবাহী ট্রেনের চলাচল অনেকটাই কমে গিয়েছিল।

তবে এখন পরিস্থিতির আশাব্যাঞ্জক উন্নতি হয়েছে। ভুট্টা, পাথর ও ফ্লাই অ্যাশের মতো পণ্যের ওয়াগন প্রতিনিয়ত আসছে। আমদানিকারকরা এই রুটের প্রতি আস্থা রাখলে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়ও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন