ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

২১ আষাঢ় ১৪৩৩

১২ লাখ টাকার পার্কিং ইজারায় স্টেশনে যাত্রী ভোগান্তি চরমে, রাস্তায় নেমে স্টেশনে প্রবেশের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৩০, ৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩১, ৫ জুলাই ২০২৬

১২ লাখ টাকার পার্কিং ইজারায় স্টেশনে যাত্রী ভোগান্তি চরমে, রাস্তায় নেমে স্টেশনে প্রবেশের অভিযোগ

রেলওয়ে স্টেশনের মূল পার্কিং এলাকা ১২ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়ার পর থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় পাশেই ব্যারিকেড বসিয়ে দেওয়ায় যাত্রীদের এখন ব্যাগ-সামান নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হেঁটে স্টেশনে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এতে যেমন বাড়ছে দুর্ভোগ, তেমনি তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।

স্থানীয় যাত্রী, স্টেশন ব্যবহারকারী এবং সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীসেবা ও চলাচলের সুবিধার বিষয়টি উপেক্ষা করে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবি, স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় পাশের পার্কিং ব্যবস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা না করে কেবল একটি অংশ ইজারা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, স্টেশনের দক্ষিণ পাশে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাজারের কারণে রিকশা ও অন্যান্য যানবাহল নিয়ে সহজে প্রবেশ করা সম্ভব হতো না। ফলে অধিকাংশ যাত্রী উত্তর পাশ ব্যবহার করতেন। কিন্তু সম্প্রতি উত্তর পাশেও ব্যারিকেড স্থাপন করায় সেই পথও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়ক পার হয়ে হেঁটে স্টেশনে প্রবেশ করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ যাত্রী এবং ভারী মালামাল বহনকারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। ট্রেন ধরতে এসে ব্যাগ, লাগেজ ও শিশুদের নিয়ে ব্যস্ত সড়ক অতিক্রম করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক যাত্রী।

একজন নিয়মিত যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
**“১২ লাখ টাকায় ইজারা দিয়ে রেলের আয় বাড়তেই পারে, কিন্তু যাত্রী যাবে কোথায়? ট্রেন ধরতে এসে এখন রাস্তায় ব্যাগ-বাচ্চা নিয়ে হাঁটতে হয়। মাল-সামান নিয়ে রাস্তা পার হওয়া রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীসেবার বিষয়টি কি একেবারেই বিবেচনায় নেই?”**

আরেক যাত্রীর ভাষ্য, **“রেলের প্রধান দায়িত্ব নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা। অথচ এখন মনে হচ্ছে যাত্রীদের সুবিধার চেয়ে রাজস্ব আদায়কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”**

স্থানীয়দের মতে, পার্কিং ইজারা দেওয়া হলে সেটি এমনভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে যাত্রীদের চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। তারা অবিলম্বে অন্তত একটি পাশ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, **“পার্কিং ইজারা দেওয়া রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। তবে যাত্রী চলাচলের যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি।”**

অন্যদিকে, রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে যাত্রী ও স্থানীয়দের প্রশ্ন, **রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই আয় যদি সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিনিময়ে অর্জিত হয়, তাহলে তা কতটা গ্রহণযোগ্য?** তাদের দাবি, রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রেলওয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন