ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

উলিপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে হামলা, ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফের শুরু সংস্কারকাজ।

হোসাইন রাজিব, স্টাফ রিপোর্টার (পশ্চিমঅঞ্চল)

প্রকাশ: ০০:১১, ১০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০০:১১, ১০ জুলাই ২০২৬

উলিপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে হামলা, ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফের শুরু সংস্কারকাজ।

কুড়িগ্রামের উলিপুর রেল সেকশনে রেললাইন সংস্কারকাজ চলাকালে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে সংস্কারকাজ প্রায় ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টার দিকে পুনরায় শুরু হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে উলিপুর রেল সেকশনের একটি স্থানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন রেললাইন সংস্কারের কাজ পরিচালনা করছিল। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে চাঁদা দাবি করে। দাবি করা অর্থ না পেয়ে তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারীকে মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর অভিযুক্তরাই আহত দুই কর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে তারা চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ছিঁড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে রেললাইন সংস্কারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। বর্তমানে আহত দুই কর্মচারী উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার প্রভাব ট্রেন চলাচলেও পড়ে। লাইন 'সাসপেন্স' থাকায় কুড়িগ্রাম থেকে রমনাবাজারগামী রমনা কমিউটার ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হয়।

আজ দুপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলীর নেতৃত্বে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে পুনরায় রেললাইন সংস্কারকাজ শুরু হয়।

এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ব্যক্তির নাম ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন পোস্টে তাদের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়। তবে এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে লিখিত অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে, তাদের পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলীর নেতৃত্বে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রেলওয়ের অবৈধ দখলকৃত জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে রেললাইনের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণ করা হয়, যাতে সংস্কারকাজ ও ট্রেন চলাচলে কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। আজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলটি রেলওয়ের অধিক্ষেত্রভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি লালমনিরহাট রেলওয়ে থানাকে অবহিত করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে মামলা দায়েরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং রেলওয়ে থানাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, "দুষ্কৃতিকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন