শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯:৫৬, ৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫৮, ৯ জুলাই ২০২৬
জুনের মাঝামাঝি তাদের বিড বন্ডের মেয়াদ শেষ হলে আরও জটিল হতে পারে পরিস্থিতি। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানিকে আশ্বস্ত করতে দ্রুত গ্রহণপত্র (লেটার অব অ্যাকসেপ্টেন্স) ইস্যু কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি সম্পন্নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে। দেরি হতে থাকলে শুধু মূল ঠিকাদার নয়; তাদের উপ-ঠিকাদার (সাব-কন্ট্রাক্টর) ও সরবরাহকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
খরচ বৃদ্ধিকে যৌক্তিক ধারণা দিতে গিয়ে সেই চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্পটির দরকষাকষির অধিকাংশ আলোচনা এখনো হচ্ছে ২০১৯ সালের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী। কিন্তু গত ছয় বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে নির্মাণসামগ্রীর দাম। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে মূল্যচাপ। এ কারণে দরদাতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই কাজের জন্য এখন পর্যন্ত নির্মাণকারী সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি ডিএমটিসিএল। চুক্তিতে অতিরিক্ত দেরি হওয়ায় একটি প্রতিষ্ঠান তো চলেই গেল। যে দুটি অংশের কাজের জন্য দরপত্র শেষে চুক্তি হয়, সেগুলোর কাজ থেমে রয়েছে।
রাজধানীর কাঞ্চন সেতু থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার পথটি ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-১ নামে পরিচিত হবে। এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার মাটির নিচ দিয়ে, বাকি ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার উড়ালপথে যাবে। ২০২৬ সালে কাজ শেষ হলে প্রতিদিন প্রায় আট লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারতেন। এতে যানজট, জীবাশ্ম জ্বালানি ও সময় ব্যয়— সবই কমত। প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। তখন বিস্তারিত জরিপ, নকশা এবং ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ধারণামূলক নকশা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ডিপিপি তৈরি হয়। তাতে খরচ ধরা হয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২২ সালে শুরু হয় প্রকল্পের কার্যক্রম।
প্রাক-যোগ্যতা পর্যায়ে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, মিসর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। মূল দরপত্র কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই ব্যয় প্রায় ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
মূলত নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণে ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে আশাতীত। দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা না গেলে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময় যেহেতু অনেকখানি গেছে, তাহলে আরেকটু যাক, তবুও পুনঃদরপত্র করা হোক— এমনটাই মনে করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। তিনি মনে করেন, ‘নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণ ব্যয় কমানোর পথ তৈরি হতে পারে। আবার নির্মাণ পদ্ধতিতে বেশ কিছু শর্ত যুক্ত থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান আগের দরপত্রে অংশ নিতে পারেনি। সেসব শর্ত তুলে দিয়ে পাতাল অংশের পুরোটায় আবার দরপত্র আহ্বান করা যায় কি না, সেটি ভাবা উচিত। কারণ, এটিই আমাদের প্রথম পাতাল মেট্রো। এটির উদাহরণ নিয়ে পরেরগুলো তৈরি হবে। ব্যয় অনেক বেশি হলে চাপ বাড়বে ভাড়ার ওপর।’
সৌজন্যে: আগামীর সময় ।