ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন বরিস জনসন

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭:২১, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৭:২১, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন বরিস জনসন

ইউক্রেন–পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার কিছুক্ষণ আগে একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে যাতায়াত করেছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় চালানো ওই হামলায় ট্রেনটির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জনসন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কিয়েভে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলন শেষে ওই রেলপথ দিয়ে ফিরছিলেন। তবে তাঁরা অন্য একটি ট্রেনে ছিলেন।

রাশিয়া জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উকরজালিজনিৎসিয়া বলেছে, বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যে ট্রেনে ছিলেন, সেটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, সময়সূচিতে পরিবর্তন আসায় এবং রুশ হামলার ধারাবাহিক হুমকির কারণে বরিস জনসনদের বহন করা কূটনৈতিক ট্রেনটি প্রত্যাশিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যায়।

ড্রোন আঘাত করার মাত্র ১৫ মিনিট আগে হামলার শিকার ট্রেনটির যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রুশ বাহিনী জেটচালিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

হামলার সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রাউসও ছিলেন বলে জানিয়েছে উকরজালিজনিৎসিয়া।

ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে।

কিয়েভ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ট বিবিসিকে বলেন, তিনি যে ট্রেনে ছিলেন, সেটির যাত্রীদের প্রথমে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। পরে তাঁদের আবার যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

বিল্ট বলেন, ‘আমরা যে ট্রেনে ছিলাম, সেটি থামার পর আমাদের সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। কয়েক মিনিট পর জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আমরা ওই ট্রেনেই আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারব।’ পরে ট্রেনটি নিরাপদে পোল্যান্ড সীমান্তের দোরোহুস্ক স্টেশনে পৌঁছায়।

কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিল্ট ও বরিস জনসন একই ট্রেনে ছিলেন। তবে জনসন এ বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেননি।

হামলার পর বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আজ সকালে পোল্যান্ড সীমান্তে ইউক্রেনের একটি দাঁড়িয়ে থাকা লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) উড়িয়ে দেওয়ার পেছনে পুতিনের কী বিকৃত যুক্তি কাজ করেছে, তা আমার জানা নেই।’ তিনি এ ঘটনাকে ইউক্রেনীয়দের ওপর প্রতিদিন ঘটে চলা অর্থহীন হামলার সঙ্গে তুলনা করেন এবং ইউক্রেনকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।

ইউক্রেনের মিত্রদের দ্রুত দেশটিকে প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানান জনসন।

রাশিয়ার দৈনিক হামলা ঠেকাতে আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক সরবরাহের জন্য ইউক্রেন তার মিত্রদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বারবার আবেদন জানিয়ে আসছে। এসব হামলায় দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা এই হামলাকে বর্বর আখ্যা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে পুতিনের সন্ত্রাস সরাসরি ইইউ এবং ন্যাটোর দরজায় কড়া নাড়ছে। তিনি মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান। এ ঘটনার পর পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। তিনি বলেন, রুশ বাহিনীর উসকানি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। তারা আমাদের সীমান্তের খুব কাছাকাছি চলে আসছে।

২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় দেশটির কোটি কোটি মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বিশাল রেল নেটওয়ার্ক। আর সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের ট্রেন, রেল ডিপো এবং সীমান্ত পারাপারের জায়গাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন