ঢাকা, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কর্মস্থলে অনুপস্থিত, হাজিরায় উপস্থিত—পটিয়া স্টেশন মাস্টারকে ঘিরে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ১৯:৫২, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫৩, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কর্মস্থলে অনুপস্থিত, হাজিরায় উপস্থিত—পটিয়া স্টেশন মাস্টারকে ঘিরে অভিযোগ

গ্রাফিক্স

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম ট্রাফিক বিভাগের অধীন পটিয়া স্টেশন মাস্টার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কন্ট্রোল অর্ডার ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, হাজিরা খাতায় অনিয়ম এবং দায়িত্ব পালনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি ও স্থিরচিত্র থাকার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, গত ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো কন্ট্রোল অর্ডার ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন স্টেশন মাস্টার আব্দুস সালাম। শুধু তাই নয়, আগস্টের ৮ ও ৯ তারিখও কন্ট্রোল অর্ডার ছাড়া সিএল ছুটি ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ৭ আগস্টের হাজিরা নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই দিন স্টেশন টিএসআর (TSR) শিটে তার অনুপস্থিতির তথ্য থাকলেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে পটিয়া স্টেশনে অবস্থান না করে বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম অফিসে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার দপ্তর, বিভিন্ন ট্রেন ও স্টেশনে ঘোরাফেরা করেন আব্দুস সালাম। ফলে স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো অন্য কর্মীদের ওপর বর্তায় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

পটিয়া ও আশপাশের স্টেশনে কর্মরত কয়েকজন পোর্টার ও পয়েন্টসম্যানের অভিযোগ, অনেক সময় স্টেশন মাস্টার উপস্থিত না থাকায় টিএসআর, পিএলসি ও লাইন ক্লিয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাদেরই করতে হয়। এসব কাজ তাদের দায়িত্বের মধ্যে না থাকলেও চাকরি হারানোর আশঙ্কায় তারা অনেক সময় বাধ্য হয়ে তা করেন বলে দাবি তাদের।

একাধিক কর্মীর ভাষ্য, শাখা লাইনের কিছু স্টেশনে রাত ও সকালের ট্রেন চলাচলের সময় পয়েন্টসম্যানরা দায়িত্ব পালন করলেও স্টেশন মাস্টারের উপস্থিতি থাকে না। মেইন লাইনের কিছু স্টেশনেও রাতের ডিউটিতে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে ধূমপানবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম চললেও পটিয়া স্টেশন মাস্টারের কক্ষকে ধূমপানের স্থান হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সংক্রান্ত একাধিক স্থিরচিত্র তাদের কাছে রয়েছে।
রেলওয়ের একটি সংগঠনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের পরিবর্তে ‘ম্যানেজ সিস্টেমে’ কাজ পরিচালনার প্রবণতা রয়েছে। তার অভিযোগ, এ কারণে অনিয়মের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, কর্মস্থলে উপস্থিতি, হাজিরা ও দায়িত্ব পালনের মতো বিষয় নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকার পরও যদি এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে চট্টগ্রাম ট্রাফিক বিভাগের মনিটরিং ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

তাদের দাবি, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ব্যক্তিগত প্রভাব বা প্রশাসনিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগকারীরা পটিয়া স্টেশন মাস্টার আব্দুস সালামসহ দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শাখা লাইনসহ প্রতিটি স্টেশনে প্রতিটি শিফটে স্টেশন মাস্টারের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং বিশেষ করে রাতের ডিউটিতে কঠোর নজরদারি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুস সালামের বক্তব্যর জন্য কল দিয়ে তাকে  পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন