ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রেলওয়ের

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪:৪৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রেলওয়ের

দেশের দুই প্রান্তের ভৌগোলিক সীমানাকে এক সুতায় গেঁথে এবার পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পাড়ি দেবে রেলের চাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় দেশের সর্ব উত্তরের জেলা হিমালয়ঘেঁষা পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সমুদ্র শহর কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ব্রডগেজ/ডুয়েলগেজ লাইনে ট্রেন চলাচলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই পথের দূরত্ব ১০৭৭ কিলোমিটার, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম রেল রুট। পাঁচটি পৃথক প্রকল্পের সমন্বয়ে এই রুট বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে নতুন করে সরাসরি ২০টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ প্রায় আড়াইশ ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পঞ্চগড়সহ পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখন থেকে সরাসরি ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার যেতে পারবেন। তিনি বলেন, সাড়ে চার বছরের মধ্যেই এই পথের পাঁচটি প্রকল্প সম্পন্ন করে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে এবং এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে যথাযথ ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন অনুযায়ী এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই। এটি হবে রেল যোগাযোগের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক মেলবন্ধন। আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট-আধুনিক ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পশ্চিম-উত্তরের প্রান্তিক জনপদ থেকে শুরু করে দক্ষিণের সমুদ্রতট পর্যন্ত ট্রেনের গতি ও যাত্রীসেবাকে এমন এক স্তরে নিয়ে যাওয়া, যা আগে কেউ কল্পনাও করেনি। এ রুটটি চালু হলে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ট্রেন ছুটবে, যা দেশের পর্যটন আর অর্থনীতিতে এক নতুন রূপান্তর ঘটাবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই রুট বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি প্রকল্প— টঙ্গী থেকে আখাউড়া, লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী, শান্তাহার থেকে বগুড়া এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। এই পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অগ্রাধিকারে থাকা এই করিডরের আধুনিকায়নে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয় প্রশাসন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। রেলওয়ে অপারেশন ও পরিবহণ দপ্তরের মতে, এই রুট শুধু যাত্রীসেবাই বাড়াবে না, বরং পাহাড় আর সাগরের দূরত্ব ঘুচিয়ে দেশের অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনবে। এমনকি চলমান আয়ের অর্ধেকের বেশি আয় হবে এই রুট চালুর মাধ্যমে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন