ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

জীর্ণ কোচ ও শিডিউল বিপর্যয়ে জামালপুরের ট্রেন

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:০৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীর্ণ কোচ ও শিডিউল বিপর্যয়ে জামালপুরের ট্রেন

দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় যাত্রী দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামালপুরের রেলপথ। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ভাঙাচোরা বগি ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। চাহিদা থাকলেও নূন্যতম সেবার অভাবে জৌলুস হারাচ্ছে একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই জংশনটি।

১৮৯৪ সালে ঢাকার সঙ্গে প্রথম রেলপথে যুক্ত হয় জামালপুর। পরবর্তীতে ১৮৯৯ সালে জগন্নাথগঞ্জ এবং ১৯১২ সালে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হলে এটি একটি বৃহৎ জংশনে পরিণত হয়। তবে ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু চালুর পর থেকে ব্যস্ত এই রেলপথটি গুরুত্ব হারাতে শুরু করে।

বর্তমানে এই রুটে আন্ত:নগর, মেইল ও লোকাল মিলে মোট ১৩ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। তবে নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়, তীব্র আসন সংকট, পুরোনো ও নষ্ট কোচ, অচল ফ্যান-বাতি এবং দুর্গন্ধের কারণে যাতায়াত কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

ভোগান্তি নিয়ে প্রান্ত রাজভর নামের এক যাত্রী বলেন, ‘ট্রেনের শিডিউলের কোনো ঠিক নেই। সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটের কমিউটার ট্রেনের জন্য সোয়া ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। তিস্তা এক্সপ্রেসের কোনো খবর নেই। আর আমরা যে বসে আছি, স্টেশন মাস্টার এখন পর্যন্ত কোনো অ্যানাউন্সমেন্টও দেননি।’

আবদুল আউয়াল নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘ট্রেনের ভেতরের অবস্থা খুবই খারাপ। ফ্যান নেই, লাইট নেই, সিটে ঠিকমতো বসা যায় না। ভেতরে বাজে গন্ধ। টাইম টু টাইমে ট্রেন আসছে না। সব মিলিয়ে আমরা যাত্রীরা অনেক প্রবলেমে পড়ে গেছি।’

ট্রেনের অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে স্বর্ণা খান নামের এক নারী যাত্রী অবিলম্বে কোচের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান। অন্যদিকে দ্রুত নতুন ইঞ্জিন ও কোচ আমদানি এবং রেললাইন মেরামতের দাবি জানিয়েছেন সুজনের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

জামালপুর টাউন রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে জামালপুর রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম জানান, জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন এবং জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ী হয়ে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত মিটারগেজ লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। লাইনের কাজ শেষ হলে সেবার মান বাড়বে।

রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘জয়দেবপুর থেকে জামালপুরের লাইনের মান উন্নয়ন হয়, সেই প্রজেক্ট তো চলছে। তবে ডাবল লাইনটা পরে হবে। দুই বছর থেকে নতুন কোচ আসছে না। যেগুলো আছে মেরামত করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন