সকালে হাসিমুখে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। রাতে সেই ছেলের মৃত্যুর খবর শুনতে হলো মাকে।
শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:৪৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সকালে হাসিমুখে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। রাতে সেই ছেলের মৃত্যুর খবর শুনতে হলো মাকে।
শুভর মতোই প্রায় প্রতিদিন ঢাকার রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কা কিংবা কাটা পড়ে ঝরছে মানুষের প্রাণ। ঢাকা রেলওয়ে (কমলাপুর) থানার তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় শুভর মৃত্যু হয়।
শুভ মিরপুরের লালমাটিয়া বামুনিয়াবাদ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর আর ফেরেননি। রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পান মা।
ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। অসাবধানতার কারণেও অনেকে প্রাণ হারান। এ ছাড়া ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধের ঘটনা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হয়।
ওসি জানান, মঙ্গলবারের ঘটনাসহ গত চার দিনে ঢাকা রেলওয়ে থানার তত্ত্বাবধানে পদ্মা সেতু রেললাইন এলাকা, টঙ্গী, বনানী, খিলগাঁও ও কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একদিনেই দুজন মারা যান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় শুভর মৃত্যু হয়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শুভর মা জানিয়েছেন, সকালে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন তার ছেলে।
এদিকে নিকট আত্মীয়-স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, পদ্মা সেতু রেললাইন এলাকায় মারা যাওয়া একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
একটি পরিবারে সকাল শুরু হয়েছিল স্বাভাবিক দিনের মতোই। কিন্তু রাত নামার আগেই সেই পরিবারে নেমে এসেছে শোক। রেললাইনে অসতর্কতার একটি মুহূর্ত যে কতটা বড় শূন্যতা তৈরি করতে পারে, শুভর মৃত্যু যেন তারই আরেকটি বেদনাদায়ক উদাহরণ।