শিরোনাম
মোতাহার হোসেন সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:৩৫, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১৫, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাসে কোটি টাকার রাজস্ব আয়, তবুও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে
প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের স্টেশনগুলোর মধ্যে আয়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন। গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী যাতায়াত করেন। তবে বিপুল রাজস্ব আয়ের বিপরীতে স্টেশনটির যাত্রীসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
স্টেশনটিতে আধুনিক পাবলিক টয়লেট পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এতে নারী ও শিশু যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্টেশন চত্বরেও নেই পর্যাপ্ত ও সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা। ফলে স্টেশনে আসা যাত্রী ও তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বজনদেরও সমস্যায় পড়তে হয়।
বিদ্যুৎ চলে গেলে স্টেশনজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে ট্রেনে ওঠানামার সময় সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প পদ্ধতিতে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্টেশনটিতে আইপিএস বা সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও নেই।
এ ছাড়া নারী যাত্রীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার না থাকায় নারী ও শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীদের বাড়তি ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রেলওয়ে কর্মচারী জানান, প্রতিদিন দিনাজপুর স্টেশন দিয়ে প্রায় ৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। লালমনিরহাট বিভাগের মধ্যে আয়ের শীর্ষ ও ব্যস্ত এই স্টেশনে এখনো প্রয়োজনীয় আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত হয়নি। স্টেশন চত্বরে পর্যাপ্ত পার্কিং ও আধুনিক পাবলিক টয়লেটের সুবিধা নেই। নারী যাত্রীদের নামাজের জন্য আলাদা স্থান এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নারের ব্যবস্থাও করা হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ব্যবহার করলেও এই অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। তবে একাধিকবার পরিদর্শনের পরও স্টেশনের যাত্রীসেবা ও অবকাঠামোয় প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বিপুল রাজস্ব আয় করা দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যাত্রীদের দাবি, স্টেশনটিতে দ্রুত আধুনিক টয়লেট, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা, পার্কিং সুবিধা, নারী ও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবাসহ সামগ্রিক অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।