ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩

পদোন্নতি আগেই, বিতর্ক এখন- পুরোনো অভিযোগের নতুন প্রচার কেন?

মনিরুজ্জামান মনির

প্রকাশ: ২০:১৮, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৮, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদোন্নতি আগেই, বিতর্ক এখন- পুরোনো অভিযোগের নতুন প্রচার কেন?

বাংলাদেশ রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই অনুসন্ধানের দাবি রাখে। তবে অভিযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো—অভিযোগের সময়কাল, নথি, প্রমাণ এবং তা প্রকাশের প্রাসঙ্গিকতা।

সম্প্রতি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, ২০২২ সালের একটি ডিও লেটার, ডিআরএম পদে পদোন্নতি, ২০২৫ সালের বদলি এবং পরবর্তী দায়িত্বের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী এসব ঘটনার বড় অংশই এক থেকে চার বছর আগের।

এখানেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে- ঘটনাগুলো যদি এত পুরোনো হয়, তাহলে হঠাৎ এখন সেগুলো নতুন করে আলোচনায় আসার কারণ কী?

এ প্রশ্ন তোলা মানেই প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা বলা নয়। বরং এটি সাংবাদিকতার সময়গত প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্ন। কোনো পুরোনো অভিযোগের নতুন তথ্য, নতুন নথি কিংবা নতুন প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট থাকলে তা অবশ্যই সংবাদযোগ্য। কিন্তু পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে- পুরোনো বিষয়টি এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।

প্রতিবেদনে কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ফাইল অনুমোদনে বিলম্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও এসেছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অবশ্যই তদন্তযোগ্য। তবে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ফাইলের গতিপথ, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মতো নথি সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কয়েকটি অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে এখন প্রয়োজন অভিযোগ ও বক্তব্য- দুই পক্ষের তথ্যই নথির মাধ্যমে যাচাই করা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো- একজন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পদায়ন যদি আগেই সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় ও অভিযোগ এখন নতুন করে সামনে আসার পেছনে বর্তমান কোনো প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট আছে কি না।

এটিকে সরাসরি ‘ষড়যন্ত্র’ বলা যেমন প্রমাণ ছাড়া ঠিক নয়, তেমনি শুধু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলেই সব অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়াও সমীচীন নয়।

সাংবাদিকতার মূল শক্তি কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা নয়; বরং প্রশ্ন তোলা, নথি যাচাই করা এবং সত্যকে সামনে আনা।

তাই ‘রেলের বাদশা’ উপাধি নয়, এখন প্রয়োজন কয়েকটি সরল প্রশ্নের উত্তর- অভিযোগের প্রমাণ কী? কর্তৃপক্ষ আগে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? আর এতদিন পর ঠিক এখনই বিষয়টি সামনে এলো কেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বলে দেবে- এটি নতুন অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা, নাকি পুরোনো অভিযোগের নতুন প্রচার।


লেখক : মনিরুজ্জামান মনির
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন