ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩

কমলাপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় পা হারানো রায়হান, কিডনি অপসারণ ও জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তির তথ্য মেলেনি

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:০৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কমলাপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় পা হারানো রায়হান, কিডনি অপসারণ ও জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তির তথ্য মেলেনি

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থানরত ১২ বছর বয়সী পথশিশু রায়হান (ছদ্মনাম) ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ডান পা হারিয়েছে। তবে তাকে পা কেটে জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা এবং কিডনি অপসারণের যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল, চিকিৎসা নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ।

রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭-৮ মাস আগে পারিবারিক অভিমানের কারণে চট্টগ্রামের লোহাগড়া থানাধীন নিজ বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে আসে রায়হান। পরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান শুরু করে। স্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফর্ম এলাকায় LEEDO পরিচালিত পথশিশু স্কুলে নিয়মিত লেখাপড়া করত এবং সেখানে দুপুরের খাবার গ্রহণ করত সে।

গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা থেকে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় রায়হান। দুর্ঘটনায় তার ডান পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের টহল দল তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে বিমানবন্দর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য কনস্টেবল/৭৭২ রিয়াজুল করিম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রায়হানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জুলাই চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তার ডান পা কর্তন করা হয়।

পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে রায়হান আবারও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফর্ম এলাকায় অবস্থান করতে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, রায়হানের পা কেটে জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা এবং তার কিডনি অপসারণের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি যাচাই করা হয়। রেলওয়ে পুলিশের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বিশেষ করে কিডনি অপসারণের অভিযোগের বিষয়ে রায়হানের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। রিপোর্টে তার উভয় কিডনি বিদ্যমান ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রেলওয়ে পুলিশ আরও জানায়, চিকিৎসা নথি অনুযায়ী ১১ জুন ট্রেন দুর্ঘটনার পর রায়হান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে নিটোরে চিকিৎসা নেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার আহত ডান পা কর্তন করা হয়।

রায়হানকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জরিনা ওরফে মালির মা নামের এক নারীর টিনের ঘরে সে খাবার গ্রহণ করত এবং সেখানে একটি প্লাস্টিকের ব্যাংকে টাকা জমা রাখত। প্ল্যাটফর্মের পানির লাইনে কর্মরত আলামিন ও ইয়াসিনও এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পা কর্তনের আগে রায়হান মিনা ও রাজু নামের এক ভিডিও ধারণকারী দম্পতির কাছে অবস্থান করত। পরে ১২ সেপ্টেম্বর জাকির নামের এক ব্যক্তি তাকে পরিবারের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে তুলে দেন বলে জানা গেছে।

রায়হানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রায়হানের নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন