ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩

স্টেশনে ট্রেন না থামায় চেইন টান, জরিমানাসহ এরপর যা ঘটলো

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮:২১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টেশনে ট্রেন না থামায় চেইন টান, জরিমানাসহ এরপর যা ঘটলো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্টেশনে ট্রেন না থামায় চেইন টানার ঘটনাকে ঘিরে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে ট্রেনে দায়িত্বরত টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) বিরুদ্ধে। তবে শিক্ষার্থীকে হেনস্তা বা মারধরে করা হয়নি বলে দাবি করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ।

তার দাবি, নিয়ম ভঙ্গের কারণে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এ সময় তাকে ন্যূনতম পরিমাণ জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মৃন্ময় চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের শিক্ষার্থী।

মৃন্ময় চক্রবর্তী বলেন, কয়েক দিন ধরে সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বাজারে রাতে থামছে না বলে জানতে পারি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমিসহ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনে ট্রেনের চেইন টানি। চেইন টানার পর রেলওয়ের কর্মীরা আমাকে ধরে ফেলেন। আমি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাই এবং রেলের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা বা শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা বলি। কিন্তু এর আগে আমাকে কটূক্তি, গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চেইন টানা আমাদের ভুল হয়েছে, আমরা বারবার ক্ষমা চেয়েছি। রেলের আইনে যে শাস্তি আছে, সেটা মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সেই ভুলের কারণে কোনও শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমান বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মৃন্ময় বলেন, রাবি স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন থামানোর দাবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের। বিষয়টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রেলে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে রেলওয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ বলেন, নিয়ম ভঙ্গ করায় শিক্ষার্থীকে কোনও হেনস্তা নয় বরং আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে কেবল ন্যূনতম জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ছেলেটি একজন ছাত্র, তাই তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে জেল বা কঠোর শাস্তি না দিয়ে কেবল শৃঙ্খলা বজায় রাখার খাতিরেই এই লঘু জরিমানা আদায় করা হয়। পূজার আগেই ট্রেনের নতুন স্টপেজ চালু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য, সেটা হচ্ছে জিনিসটা সমাধান হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও একই ট্রেনের যাত্রী, আর কর্মচারীরাও ওই ট্রেনেরই যাত্রী। শিক্ষার্থীরা যদি সত্যিই হেনস্তার শিকার হয়ে থাকে, তবে উপযুক্ত প্রমাণসহ দরকার পড়লে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানানো হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা অবশ্যই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করবো তারা যেন এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়।

এর আগে গত ২১ জুলাই ট্রেনে রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় ১০ ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা চার দফা দাবি জানান।

দাবিগুলো ছিল— অভিযুক্ত টিটিইকে সশরীরে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত করা, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী বহিষ্কার করা, যাত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন