শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:৫৪, ৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা বন্ধ করে ‘সহজ’-এর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের জেনারেল সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এম. আর. মঞ্জু। রেলের নিজস্ব সার্ভার, দক্ষ জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনলাইন টিকিটিং চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এম. আর. মঞ্জু বলেন, রেল জনগণের সম্পদ। তাই রেলের টিকিটিং ব্যবস্থাও জনগণের স্বার্থে পরিচালিত হওয়া উচিত। গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় সেবাকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল রেখে যাত্রীদের অতিরিক্ত ব্যয়, হয়রানি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল এবং রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোট দীর্ঘদিন ধরে রেলের নিজস্ব কারিগরি ব্যবস্থাপনায় টিকিট বিক্রির দাবি জানিয়ে আসছে। রেলের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ই-টিকিটিং চালু করা হলে যাত্রীসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি টিকিট বিক্রিসংশ্লিষ্ট আয় থেকে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
অ্যাডভোকেট এম. আর. মঞ্জু ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সহজ’-এর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি বাতিল করে টিকিটিং ব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ রেলওয়ের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে রেলের নিজস্ব সার্ভার, সফটওয়্যার, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনলাইন টিকিট বিক্রি চালু করতে হবে।
তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অযৌক্তিক সার্ভিস চার্জ আদায় বন্ধ এবং ই-টিকিটিং-সংশ্লিষ্ট আয় ও চার্জের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিশ্চিত করারও দাবি জানান। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি, কৃত্রিম সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
রেলের নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মঞ্জু বলেন, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবা পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রেলওয়ের নিজস্ব প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও দক্ষ কারিগরি জনবল শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, “রেল কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়; এটি জনগণের সম্পদ। জনগণের অর্থে পরিচালিত রেলের টিকিটিং ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণও জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্রের হাতেই থাকতে হবে।”
অ্যাডভোকেট এম. আর. মঞ্জু সরকার ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাত্রীবান্ধব, স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ই-টিকিটিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যাত্রীস্বার্থ ও রেলের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল এবং রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোট প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।