ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ প্রকাশের এক সপ্তাহ পরও পরিষ্কার হয়নি পার্বতীপুর স্টেশনের ময়লা- আবর্জনায় ভরা বিশুদ্ধ পানির স্থান

মোঃ মোতাহার হোসেন সরকার, স্টাফ রিপোর্টার 

প্রকাশ: ১৭:০৪, ৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০৪, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের এক সপ্তাহ পরও পরিষ্কার হয়নি পার্বতীপুর স্টেশনের ময়লা- আবর্জনায় ভরা বিশুদ্ধ পানির স্থান

দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনে যাত্রীদের একমাত্র বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের স্থান ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের সাত দিন পরও তা পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে সরেজমিনের চিত্রেও ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন। এ স্টেশন দিয়ে পঞ্চগড়, ঢাকা, খুলনা, রংপুর, চিলাহাটি সহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে আন্তঃনগর, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করেন।

গত ১ অক্টোবর ‘পরিষ্কার করা হয় না পানির ট্যাংকি, পার্বতীপুর স্টেশনে ময়লা-আবর্জনায় ভরা বিশুদ্ধ পানির স্থান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি সংগ্রহ যাত্রীদের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে যাত্রীদের পানি সংগ্রহের জন্য দুটি ট্যাপ রয়েছে। তবে ট্যাপগুলোর আশপাশে পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকায় স্থানটি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। সেখানে মশা-মাছিরও উপদ্রব দেখা গেছে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করা হয় না বলেও অভিযোগ করেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার আশায় এসব ট্যাপ থেকে পানি সংগ্রহ করলেও পানি সংগ্রহের স্থান ও আশপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকায় পানির বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি তখন পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. রেজাউল ইসলামকে জানানো হলে তিনি বলেছিলেন, ‘পার্বতীপুর স্টেশন সব সময়ই নোংরা থাকে। আমরা পরিষ্কার করে থাকি। কিন্তু যিনি পরিষ্কার করেন, তিনি কয়েকদিন ধরে আসছেন না। বিষয়টি পরিষ্কারকর্মীর ইনচার্জকে অবগত করেছি। আজকের মধ্যে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করছি।’

তবে তাঁর ওই বক্তব্যের পর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও পার্বতীপুর জংশনের ময়লা-আবর্জনায় ভরা পানি সংগ্রহের স্থান পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আগের মতোই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যাত্রীদের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

এদিকে, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মধ্যে স্টেশনের পানি সংগ্রহের স্থান ও আশপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্টেশন ও রেলওয়ে এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের স্থান অপরিচ্ছন্ন থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

সাত দিন পর আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিষয়টি নিয়ে আবারও পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. রেজাউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আগের অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, পার্বতীপুর জংশনের ময়লা-আবর্জনায় ভরা পানি সংগ্রহের স্থান পরিষ্কার করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো ময়লা-আবর্জনা নেই।

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের স্থানটি এখনও নোংরা ও ময়লা-আবর্জনায় ভরা রয়েছে। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। ফলে স্টেশন মাস্টারের দাবি ও সরেজমিনের চিত্রের মধ্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় সংবাদ প্রকাশের সাত দিন পরও পানি সংগ্রহের স্থান পরিষ্কার না হওয়া এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে সরেজমিনের চিত্রের ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ে জংশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি পানি সংগ্রহের স্থান ও পানির ট্যাংকি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তাদের দাবি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানি সংগ্রহের স্থান ও পানির ট্যাংকি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করবে এবং যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন