শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৫২, ৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫২, ৮ অক্টোবর ২০২৬
রেলের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে মামলা ও পিবিআই তদন্তের মধ্যেই বিদ্যমান টিকিটিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক অতিরিক্ত রেল সচিব মাহবুব কবির মিলন। তাঁর মতে, শুধু কালোবাজারিদের গ্রেপ্তার কিংবা তদন্ত করে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন টিকিট বিক্রির পুরো ব্যবস্থায় পরিবর্তন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে রেলের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মাহবুব কবির মিলন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের অনলাইন টিকিট বিক্রি শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তবে শুধু সার্ভারের ডাটা দেখে টিকিট কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া কঠিন হতে পারে। কারণ, একজন কালোবাজারি একাধিক বৈধ অ্যাকাউন্ট, নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন সাধারণ যাত্রী হয়তো নিজের ও পরিবারের কয়েকজনের অ্যাকাউন্ট দিয়ে টিকিট কাটেন। অন্যদিকে কালোবাজারিরা শত শত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একই সময়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারে। ফলে একজন সাধারণ যাত্রী যেখানে একটি টিকিট পেতে পারেন, সেখানে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী একই সময়ে অনেক বেশি টিকিট সংগ্রহের সুযোগ পান বলে তাঁর অভিযোগ।
সাবেক অতিরিক্ত রেল সচিবের দাবি, টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে রেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু কর্মী ও ট্রেনের স্টাফ জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে নন-স্টপ ও আন্তঃনগর ট্রেনে অবৈধ যাত্রী পরিবহনের সঙ্গে কিছু অ্যাটেনডেন্ট ও খাবার গাড়ির স্টাফের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, এসব অনিয়মের সঙ্গে রেলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত।
টিকিটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহবুব কবির মিলন। তাঁর অভিযোগ, সার্ভার বা টিকিটিং ব্যবস্থায় টিকিট ব্লক করে কালোবাজারির সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন করেন, কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে না কেন।
তাঁর মতে, পিবিআই, এফবিআই কিংবা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্ত করালেই সমস্যার সমাধান হবে না। মূল ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজে যুক্ত হতে পারেন।
মাহবুব কবির মিলন বলেন, ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’—এই নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে টিকিট কালোবাজারি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে টিকিট কেনার সময় পরিচয় যাচাই ও ভ্রমণের সময় সেই পরিচয়ের সঙ্গে যাত্রীর মিল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রেলের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মামলা ও তদন্তের উদ্যোগের মধ্যেই সাবেক অতিরিক্ত রেল সচিবের এই বক্তব্য নতুন করে টিকিট বিক্রির পদ্ধতি, একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার এবং রেলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।