ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

এক মাসের ক্ষমতা পেলে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করে দেব : মাহবুব কবির মিলন

মোঃ মোতাহার হোসেন সরকার, স্টাফ রিপোর্টার 

প্রকাশ: ১১:৫৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬

এক মাসের ক্ষমতা পেলে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করে দেব : মাহবুব কবির মিলন

ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–কক্সবাজার রুটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এক মাসের জন্য পূর্ণ ক্ষমতা চেয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত রেল সচিব মাহাবুব কবির মিলন। সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য রেলপথেও এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ রেলওয়ে ফ্যান ফোরাম গ্রুপে প্রকাশিত এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন মাহাবুব কবির মিলন।

পোস্টে তিনি জানান, টিকিট কালোবাজারি বন্ধের উদ্যোগ নিতে কোনো পদ-পদবি, আলাদা চেয়ার-টেবিল কিংবা বেতন-ভাতা চান না তিনি। শুধু যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব চান। এক মাসের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে চুক্তিভিত্তিক অবসরপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক, চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে কাজ করা হবে। অভিযানের জন্য বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও চেয়েছেন তিনি। উদ্যোগ সফল হলে ম্যাজিস্ট্রেটরা ফিরে যাবেন এবং পুলিশি সহায়তায় টিকিট পরীক্ষকেরা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করেন।

মাহাবুব কবির মিলনের পরিকল্পনায়, প্রতিটি কোচের সব যাত্রীকে পরীক্ষা না করে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যাত্রীদের পরিচয় ও টিকিট যাচাই করা হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দ্বিগুণ জরিমানা এবং যার নামে টিকিট, তাঁকেই ভ্রমণ করতে হবে—এ নীতি শতভাগ বাস্তবায়নের কথা বলেছেন তিনি। অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের টিকিটের সঙ্গে বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছেন।

এ ছাড়া টিকিট পরীক্ষক, চেকার ও গার্ডদের শরীরে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রার তিন থেকে পাঁচ দিন আগে টিকিট ইস্যু করার প্রস্তাবও দিয়েছেন।

পোস্টে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কার্যক্রম পুনর্গঠন, বাহিনীটির আইনগত দায়িত্ব কার্যকর করা এবং রেল অধিদপ্তরের পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাহিনীটির সদস্যদের আইনগত দায়িত্বের বাইরে টিকিট পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে রেলপথে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। অনিয়মকারীদের পক্ষে কেউ তদবির বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে তাদের পরিচয় প্রকাশ করার কথাও বলেছেন।

পোস্টের শেষে মাহাবুব কবির মিলন তাঁর প্রস্তাবটি ছড়িয়ে দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন