ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

শীঘ্রই চালু হচ্ছে না বাংলাদেশ ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন!

সেলিমুর রহমান

প্রকাশ: ১০:৪৫, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৫, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শীঘ্রই চালু হচ্ছে না বাংলাদেশ ভারত  যাত্রীবাহী ট্রেন!

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল কবে নাগাদ পুনরায় চালু হবে, তা নিয়ে আলোচনা চললেও নিউজ লেখা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। ঢাকার রেল ভবনে চলমান তিন দিনব্যাপী ৩৮তম আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠক (IGRM)-এর আজ তৃতীয় ও শেষ দিনের আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের রেল যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় দিনের আলোচনা চলছে। বৈঠক শেষে বিকেল ৪টার দিকে সাংবাদিকদের সামনে তিন দিনের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে।

সভায় উপস্থিত থাকা কয়েকজন রেল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে রেল নিউজ জানতে পেরেছে, নিউজ লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে কবে থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সীমা চূড়ান্ত হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন রেল কর্মকর্তা রেল নিউজকে বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি বৈঠকের আলোচনায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকের আলোচনা শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর যাত্রা ১৮ জুলাই ২০২৪ থেকে স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা-কলকাতা রুটের বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটের মিতালী এক্সপ্রেস।

দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেনগুলো বন্ধ থাকায় দুই দেশের মধ্যে রেলপথে সরাসরি যাত্রী পরিবহন কার্যত বন্ধ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, বর্তমানে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল না করলেও দুই দেশের মধ্যে গড়ে মাসে প্রায় ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং প্রায় ৪২টি খালি র‌্যাক ফেরত যাচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিন দিনব্যাপী IGRM বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।

এদিকে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত পদ্মা সেতু হয়ে নতুন রুটে পরিচালনার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। এতে ভ্রমণ সময় কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি তিন দিনব্যাপী IGRM বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শুধু বিদ্যমান ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয় নয়, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ভবিষ্যৎ যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা চলছে। রেলমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, রাজশাহী-কলকাতা-রাজশাহী রুটে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পুরোনো আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে শুধু রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, কাস্টমস, ট্রেন পরিচালনা, রুট, সময়সূচি, যাত্রীসেবা এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের বিষয় রয়েছে।

রেলমন্ত্রীও জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় সম্পন্ন করার পরই মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।


বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নথিতেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩৮তম IGRM আয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

তিন দিনব্যাপী বৈঠকের আজ তৃতীয় দিনের আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হক। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অতিরিক্ত সদস্য (ট্রাফিক) দীপক কুমার ঝা।

বৈঠক শেষ হওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে সাংবাদিকদের সামনে দুই দেশের আলোচনার বিষয়, সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরার কথা রয়েছে।

তবে নিউজ লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস কবে নাগাদ আবার যাত্রী নিয়ে চলবে—এখনো নিশ্চিত নয়। বৈঠকের শেষ দিনের আলোচনা ও বিকেলের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের পর এ বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন