শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:৩৯, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৩৯, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগের ক্ষেত্রে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি। সংগঠনটির দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্য রেলওয়ে পোষ্যদের নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৯ জন পিটিশনারের মধ্যে ৬৬ জনকে অফার লেটার দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে সংবাদ প্রকাশ এবং নিয়োগ কমিটি, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পিটিশনারদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে মূলত দীর্ঘদিন ধরে অধিকারবঞ্চিত পোষ্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
হাইকোর্টের রায়, আপিল বিভাগেও বহালঃ
রেলওয়ের ৮৬৫ খালাসি নিয়োগের জন্য ২৪ অক্টোবর ২০১০ তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদন গ্রহণের প্রায় পাঁচ বছর পর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১১ মে ২০১৯ তারিখে ফল প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক দেখা দেয়। রেলওয়ে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্য পোষ্যরা পোষ্য কোটায় আবেদন করেও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ রিট পিটিশন নং ১৪৫০২/২০১৯ ও ৭২৩৭/২০১৯-এর বিষয়ে আবেদনকারী পোষ্যদের পক্ষে রায় দেন।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে দায়ের করা সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ২৪৭৫/২০২৪ ও ২৪৭৬/২০২৪-ও আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যায়।
আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, হাইকোর্টের রায় ও আদেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো আইনগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আপিলের অনুমতির আবেদনটি ‘devoid of merit’ হিসেবে খারিজ করা হয়।
যোগ্য পিটিশনারদের নিয়োগের নির্দেশঃ
পোষ্য সোসাইটির সভাপতি বলেন, হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
“The respondents are directed to issue the appointment letters after maintaining the quota in favour of the eligible petitioners on being satisfied that they are not otherwise disqualified.”
অর্থাৎ, আবেদনকারীরা অন্য কোনো বৈধ কারণে অযোগ্য না হলে পোষ্য কোটা সংরক্ষণ করে যোগ্য আবেদনকারীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, শূন্য পদ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকলেও আবেদনকারীরা অন্য কোনো কারণে অযোগ্য না হলে ভবিষ্যতে সৃষ্ট শূন্য পদে তাদের নিয়োগপত্র দিতে হবে।
মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। আদালত যোগ্য পিটিশনারদের নিয়োগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।”
রেলওয়ের নিজস্ব কার্যক্রমেই রায় বাস্তবায়নের প্রমাণঃ
পোষ্য সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আপিল বিভাগে মামলার নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজস্ব প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় রায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের মামলা পরিচালনাকারী প্যানেল আইনজীবী রায়ের বিষয়ে আইনগত মতামত দেন। ১৬ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে, সিআরবি, চট্টগ্রামের আইন কর্মকর্তাও মতামত প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর চীফ পার্সোনেল অফিসার (পূর্ব) এবং ৮ অক্টোবর রেলভবনের পার্সোনেল-৩ শাখা থেকে রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় পিটিশনারদের যোগ্যতা ও কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য নিয়োগ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কমিটি আবেদনকারী পোষ্যদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণক গ্রহণ করে।
৯৯ জনের মধ্যে ৬৬ জন পেলেন অফার লেটারঃ
সংগঠনটির সভাপতি জানান, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে জিএম (পূর্ব) নথি রেলওয়ে মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করেন। মহাপরিচালক ১৬ জুন কমিটির আংশিক প্রতিবেদন গ্রহণ করে অফার লেটার প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং অবশিষ্ট পিটিশনারদের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন।
এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া ৯৯ জন পিটিশনারের মধ্যে ৬৬ জনকে ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে অফার লেটার দেওয়া হয়।
পোষ্য সোসাইটির দাবি, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে রেলওয়ে আদালতের রায় বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এখন অবশিষ্ট যোগ্য পিটিশনারদের নিয়োগও দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ শূন্য পদেও নিয়োগের সুযোগঃ
মনিরুজ্জামান মনির বলেন, রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগে অবসর, পদোন্নতি, মৃত্যু ও অন্যান্য কারণে নিয়মিত খালাসি পদ শূন্য হচ্ছে। ফলে বিদ্যমান শূন্য পদে নিয়োগ সম্ভব না হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে সৃষ্ট শূন্য পদেও যোগ্য পিটিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তার দাবি, আদালতের রায়ের তালিকা, রেলওয়ের ইস্যুকৃত ভাইভা কার্ড, পোষ্য সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় নথির ভিত্তিতে যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব।
নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট অপপ্রচার চালাচ্ছেঃ
পোষ্য সোসাইটির সভাপতি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মহল তাদের স্বার্থ রক্ষায় কিছু গণমাধ্যম ও সাংবাদিককে ব্যবহার করে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন না করে সংশ্লিষ্ট সংবাদগুলোর বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “আদালতের রায় বাস্তবায়নকে নিয়োগ বাণিজ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলে দীর্ঘদিনের অধিকারবঞ্চিত পোষ্যদের ন্যায়সংগত অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে আদালতের রায়, রেলওয়ের নথি এবং যাচাই-বাছাই কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।”
অপপ্রচার বন্ধ না হলে আইনগত পদক্ষেপঃ
রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়োগ কমিটির সদস্য, জিএম, রেলওয়ের মহাপরিচালক কিংবা পিটিশনারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে তাদের সম্মানহানি করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংগঠনটির সভাপতি গণমাধ্যমের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার অন্ধ সমর্থনে দাঁড়াইনি। আমরা দাঁড়িয়েছি মহামান্য আদালতের চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে অধিকারবঞ্চিত রেলওয়ে পোষ্যদের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে।”
তিনি বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, যাচাই-বাছাই এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক—কিন্তু অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে যেন যোগ্য পোষ্যদের নিয়োগ আবারও অনিশ্চয়তায় না পড়ে।