শিরোনাম
মো: মোতাহার হোসেন সরকার( স্টাফ রিপোর্টার)।
প্রকাশ: ১১:১৯, ৬ মে ২০২৬
চাকরি রাজস্বকরণের দাবিতে আবারও আন্দোলনের পথে বাংলাদেশ রেলওয়ে-এর প্রকল্পভিত্তিক গেটকিপাররা। আগামী ১০ মে রেলভবনের সামনে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
গেটকিপারদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বারবার আশ্বাস দিলেও তাদের চাকরি রাজস্ব করা হয়নি। ২ বছরের প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও মেয়াদ বাড়তে বাড়তে ৮ বছরে গড়িয়েছে, অথচ স্থায়ী নিয়োগের কোনো অগ্রগতি নেই। এতে অনেকের বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
তাদের দাবি, যোগদানের সময় নির্ধারিত ১৪,৪৫০ টাকার বেতন এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এমনকি এই সামান্য বেতন পেতেও ৭-৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানে নজিরবিহীন বলে দাবি করেন তারা।
গেটকিপাররা আরও জানান, অল্প বেতন, মানসিক চাপ ও চাকরির অনিশ্চয়তায় ইতোমধ্যে ২ জন আত্মহত্যা করেছেন এবং ১৬ জন স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন (তাদের দাবি অনুযায়ী)। একইসঙ্গে কর্মস্থলে নেই বিদ্যুৎ, পানি কিংবা থাকার ন্যূনতম ব্যবস্থা—যার ফলে অমানবিক পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
একজন গেটকিপার বলেন, “রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিনরাত কাজ করি, কিন্তু আমরা সবচেয়ে অবহেলিত। এই বেতনে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
গেটকিপার নেতারা জানান, ২০২২ সালে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য সার্কুলার জারি হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আবেদনকারীদের কাছ থেকে ট্রেজারি ফি নেওয়ার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে বলে অভিযোগ তাদের।
গেটকিপার ঐক্যবদ্ধ ঢাকার সমন্বয়ক কাউছার রেল নিউজ ২৪ জানান,
“৮ বছর ধরে একই বেতনে কাজ করছি। এখনো ১৪,৪৫০ টাকায় চাকরি করতে হচ্ছে, অথচ এই সামান্য বেতন পেতেও অনেক সময় ৭–৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের কোনো ইনক্রিমেন্ট নেই, নেই পদোন্নতি বা স্থায়ী হওয়ার নিশ্চয়তা। থাকার জন্য নেই বাসস্থান, গেটের পাশে যে কক্ষ আছে সেখানেও নেই বিদ্যুৎ বা পানির ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে আমরা চরম বৈষম্য ও মানবেতর পরিবেশে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
চাকুরী স্থায়ীকরন এবং বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবীতে ১০ মে রেলভবনে সামনে কর্মসূচি করা হবে, রেল যদি কোন সুরাহা না করে তবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জন্য কার্যালয়ের যাবো।