শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:১৯, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৯, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করলেও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনে স্থাপিত ১৪টি এবং রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির নিজস্ব ৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল হয়ে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে স্টেশন এলাকায় সংঘটিত নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন অচল থাকায় স্টেশন এলাকায় মাদক চোরাচালান, পকেটমার, টিকিট কালোবাজারি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সুযোগ বাড়ছে। একই সাথে ভবঘুরে, মাদকসেবী ও অসামাজিক ব্যক্তিদের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যাত্রীরা জানান, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার মূল হাতিয়ার সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকায় কোনো অপরাধ ঘটলে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা স্টেশনের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তাহীনতা তীব্র আকার ধারণ করে। এমনকি রেলওয়ে পুলিশ ট্রেনে যাতায়াতের সময় মাদকসহ কারবারিদের আটক করলেও সিসিটিভি সচল না থাকায় অনেক অপরাধী সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও যাত্রী নিরাপত্তায় কেন এমন অব্যবস্থাপনা। অচল ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল করার পাশাপাশি স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোঃ শাকির জাহান জানান, স্টেশনের ক্যামেরাগুলোর হার্ডডিস্কে সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান ১৪টি ক্যামেরা মেরামতের পাশাপাশি আরও ১৪টি নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, অনেকেই চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে আসেন। সকালে একজন প্রবাসীর মানিব্যাগ ছিনতাই হয়েছে, কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকায় অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে জনগণের নিরাপত্তা বিধান এবং মাদক চোরাচালান ও চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।