শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৫৯, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:০০, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট)’ নামের এই প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মোকছেদ আলী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে পাতালপথে। এরপর আফতাবনগর সেন্টার থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হবে উড়ালপথে।
পুরো রুটে থাকবে ১৫টি স্টেশন। এর মধ্যে ১১টি হবে পাতাল এবং চারটি উড়াল স্টেশন। স্টেশনগুলো হবে—গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাসিরাবাদ ও দাশেরকান্দি।
নতুন এই মেট্রোরেল চালু হলে রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী থেকে কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে দ্রুত ও সরাসরি গণপরিবহন যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট ও গণপরিবহনের চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রকল্পের বৈদেশিক অর্থায়ন এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও অর্থায়নের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ থামিয়ে রাখতে চায় না ডিএমটিসিএল।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণে প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই দরপত্রসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে মূল নির্মাণকাজ।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানান, ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় সরকার বহন করবে। ফলে এডিবির ঋণ পেতে কিছুটা সময় লাগলেও প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করতে সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, শুধু টানেল নির্মাণেই প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তাই প্রকল্পের শুরুতেই টানেল নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। সিপি-১ থেকে সিপি-৪ পর্যন্ত চূড়ান্ত দরপত্রের নথি প্রস্তুত হয়েছে এবং এ বিষয়ে এডিবির সম্মতিও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সিপি-৬ ও সিপি-৭-এর নথি পর্যালোচনা চলছে। পাশাপাশি সিপি-৮ ও সিপি-৯-এর দরপত্রের নথিও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে একনেকের অনুমোদন পাওয়ার পরই গাবতলী-দাশেরকান্দি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও পরিষ্কার হবে। দীর্ঘ পাতালপথ ও উড়ালপথের সমন্বয়ে নির্মিত এই রুটটি চালু হলে রাজধানীর পশ্চিম, কেন্দ্র ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।