শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৫২, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫২, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনার পর ট্রেনটির ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাবলেট প্রতিষ্ঠান শরীফ হোটেল অ্যান্ড ক্যাটারার্সকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তে ক্যাটারিং কার্যক্রম এখন সরাসরি বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড ক্যাটারিং সেল পরিচালনা করছে।
সূত্র জানায়, গত ৩০ আগস্ট রাতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক ট্রেনটির ক্যাটারিং সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পরই শরীফ হোটেল অ্যান্ড ক্যাটারার্সের সাবলেট বাতিল করে ক্যাটারিং সেবাটি পুনরায় রেলওয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড ক্যাটারিং সেলের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহের শেষ ট্রিপে শরীফ হোটেল অ্যান্ড ক্যাটারার্স ক্যাটারিং পরিচালনা করে। তবে ২ সেপ্টেম্বর থেকে সপ্তাহের প্রথম ট্রিপেই প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তে রেলওয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খাবার সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেখা যায়।
কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যাটারিং সার্ভিস শুরু থেকেই বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড ক্যাটারিং সেলের অধীন ছিল। তবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি সাবলেট দেওয়া হয়েছিল শরীফ হোটেল অ্যান্ড ক্যাটারার্সকে। ধর্ষণের অভিযোগের পর সেই সাবলেট প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এ ঘটনায় ট্রেনের টিজি পার্টির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে অবহেলা এবং অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তে রেলওয়ে পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত টিজি সদস্যদেরও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শরীফ হোটেল অ্যান্ড ক্যাটারার্সের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম বাবু। প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী গুরুতর অপরাধের অভিযোগে জড়িয়ে পড়ায় কর্মী নিয়োগ, তদারকি ও দায়িত্ব বণ্টনে প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ফলে সাবলেট প্রত্যাহারের প্রশাসনিক কারণ ও লিখিত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগিতে অনুরূপ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছিল। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঘটনায়ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে।