ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ট্রেনে জুস পান করিয়ে যাত্রীকে অচেতন, অজ্ঞান পার্টির সদস্য আটক

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮:৫১, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৫১, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রেনে জুস পান করিয়ে যাত্রীকে অচেতন, অজ্ঞান পার্টির সদস্য আটক

খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়া চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের এক যাত্রীকে জুস পান করিয়ে অচেতন করার পর হাতিয়ে নেওয়া হয় টাকা ও মোবাইল ফোন। এ সময় ট্রেনে টহলরত রেলওয়ে পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পেরে অজ্ঞান পার্টির সদস্য ফুল মিয়াকে (৫৬) আটক করে। পরে তাঁর কাছে থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশ ওই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বেলা ৩টা পর্যন্ত তাঁর জ্ঞান ফেরেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে উদ্ধার করা তাঁর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

অজ্ঞান পার্টির সদস্য ফুল মিয়ার বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আবদুল্লাপুরে। আর ভুক্তভোগী যাত্রী হলেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার হেলাফেলা গ্রামের ব্যবসায়ী হাজী মফিজুর রহমান।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, আজ ভোরে খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়া চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ বগির ৩৪ নম্বর আসনের যাত্রী ছিলেন হাজী মফিজুর। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশন পার হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারালে টহলরত পুলিশের নজরে আসে। এ সময় পাশের যাত্রী ফুল মিয়াকে আটকের পর তাঁর কাছ থেকে ভুক্তভোগীর টাকা ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।

অজ্ঞান পার্টির সদস্য ফুল মিয়া জানান, আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাঁকে জুস পান করান তিনি। এতে ভুক্তভোগী অচেতন হলে তাঁর টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় রেলওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অজ্ঞান পার্টির ওই সদস্যের নামে বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ভুক্তভোগীর জ্ঞান ফিরলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট এই সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের দুই নারী যাত্রীকে (মা ও মেয়ে) জুস পান করিয়ে অচেতন করার পর তাঁদের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেওয়া হয়। এ সময় পাশের যাত্রী ঘটনাটি বুঝতে পেরে হাতেনাতে অজ্ঞান পার্টির সদস্য ফুল মিয়াকে আটক করেন। পরে যাত্রীরা তাঁর কাছে থাকা জুস যাচাই করতে তাঁকে পান করালে তিনি নিজেও জ্ঞান হারান। ওই ভুক্তভোগী যাত্রীরা ছিলেন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের রশনী রায়ের স্ত্রী কৌশিলা রায় (৫৩) ও মেয়ে বীথি রানী (২৯)। ওই ঘটনায় কৌশিলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্রনাথ রায় বাদী হয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন