ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন: দীর্ঘ নির্মাণকাজে বাড়ছে ভোগান্তি

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬:১৪, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন: দীর্ঘ নির্মাণকাজে বাড়ছে  ভোগান্তি

পাখি চোখে নির্মাণাধীন চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন ও নতুন দ্বিতল ভবন। ছবি: খবরের কাগজ

নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। এরপরও শেষ হয়নি চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন ও নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণকাজ। কয়েক দফা বন্ধ থাকার পর আবারও চলছে নির্মাণকাজ। প্ল্যাটফর্মের কাজ অনেকটা শেষ হলেও ভবনের কাজ চলছে ধীরগতিতে। ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। আগামী বছরের মাঝামাঝি পুরো কাজ শেষ করার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ চলায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। পুরোনো প্ল্যাটফর্ম ও ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলায় নেই পর্যাপ্ত বসার জায়গা, বিশ্রামাগার ও শৌচাগারের সুবিধা। মূল ভবনের বাইরে অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার চালু থাকায় নতুন ও দূর-দূরান্তের যাত্রীরা পড়ছেন বিভ্রান্তিতে। সংকট রয়েছে স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। ১৮৬২ সালে দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ চালুর মধ্য দিয়ে বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে রেল যোগাযোগের সূচনা হয়। প্রায় ১৬৪ বছরের পুরোনো সেই ঐতিহাসিক রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন চুয়াডাঙ্গা।

পুরোনো অবকাঠামোর পরিবর্তে আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন দ্বিতল স্টেশন ভবন, প্রশস্ত প্ল্যাটফর্ম, প্ল্যাটফর্মে ছাউনি ও যাত্রীদের অপেক্ষার স্থানসহ বিভিন্ন কাজের জন্য প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরটিসি ও এসএইচজে জয়েন্ট ভেঞ্চারের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয় ৫৪০ দিন। সে হিসাবে ২০২৫ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও পুরো কাজ শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণকাজ অনেকটাই এগিয়েছে। নতুন প্ল্যাটফর্মে ছাউনির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে নতুন দ্বিতল স্টেশন ভবনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কোথাও প্লাস্টার, কোথাও টাইলস, আবার কোথাও রং ও ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে।

সৈয়দ আবু জাফর নামে এক যাত্রী বলেন, ‘স্টেশনটি আধুনিক হচ্ছে, এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু কাজটি দীর্ঘদিন ধরে চলায় যাত্রীদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ট্রেনের জন্য অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, অথচ বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও নারী-শিশুদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত কাজ শেষ করে যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা চালু করা হোক।’

আরেক যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে কাজ চলছে। এখনো ভবন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। নির্মাণকাজ চলতে পারে, কিন্তু এই সময় যাত্রীদের বসার জায়গা, টয়লেট ও টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা যেন ঠিক থাকে, সেটাও কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত।’

যাত্রী শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘স্টেশনে একজন নারী যাত্রীর জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে পরিষ্কার ও নিরাপদ টয়লেট এবং বসার জায়গা। কিন্তু নির্মাণকাজের কারণে এখন এসব সুবিধা খুবই সীমিত। বাচ্চা বা বয়স্ক কাউকে নিয়ে এলে সমস্যাটা আরও বেশি বোঝা যায়।’

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, ‘নির্মাণকাজ চলমান থাকায় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীসেবা ও আমাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। পুরোনো ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত জায়গায় অফিসের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। যাত্রীদের বসার স্থান, টিকিট সংগ্রহ এবং অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রেও সাময়িক অসুবিধা রয়েছে। আমরা যতটা সম্ভব বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যে যাত্রীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন ভবন ও অন্যান্য কাজ শেষ হলে এসব সমস্যা আর থাকবে না।’

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নকশা-সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে মাঝখানে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। এখন আবার নিয়মিত কাজ চলছে। ভবনের মূল কাঠামোর কাজ অনেকটাই হয়ে গেছে। বর্তমানে প্লাস্টার, টাইলস, রংসহ ফিনিশিংয়ের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন