শিরোনাম
মোহাম্মদ ইউসুফ
প্রকাশ: ১২:৪৬, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪২, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে দুই ব্যবসায়ী সংগঠনের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) উদ্যোগে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা–২০২৬’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে একই ভেন্যুতে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মেলা আয়োজনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সিএমসিসিআইয়ের দাবি, বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী পলোগ্রাউন্ড মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেই তারা মেলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম, পিইঞ্জ জানিয়েছেন, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগেই মেট্রোপলিটন চেম্বার নিয়ম-নীতি মেনে এবং নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছিল।
অনুমোদন পাওয়ার পর সেপ্টেম্বরের প্রথম দিক থেকেই পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলার প্রস্তুতি শুরু করে সিএমসিসিআই। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মাসব্যাপী এ মেলায় প্রায় ২৪০টি স্টল ও প্যাভিলিয়নে দেশি-বিদেশি শিল্পগোষ্ঠী, আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মেলায় ফুড কোর্ট, কিডস জোন, নামাজের স্থান, আলাদা ওয়াশরুমসহ দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিসিটিভি ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে আয়োজকরা।
একই মাঠে অন্য মেলার উদ্যোগে জটিলতা
এরই মধ্যে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি একই পলোগ্রাউন্ড মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য রেলওয়ের কাছে আবেদন করে। এতে একই ভেন্যুতে দুটি মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের বক্তব্য অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন চেম্বার তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগেই নিয়ম মেনে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছিল। একই সময়ে চিটাগাং চেম্বারও মাঠ ব্যবহারের আবেদন করে। এ পরিস্থিতিতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে মেলার সময়সূচি সমন্বয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রস্তুতিতে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
এদিকে মেলার প্রস্তুতি চলাকালে বাধা, কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, মারধর এবং নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সিএমসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মেলার প্রস্তুতিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মেলার কাজে যুক্ত এক প্রতিনিধির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কোতোয়ালি থানা পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো মারামারি দেখতে পায়নি এবং তখন পরিস্থিতি শান্ত ছিল। ওই সময় পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
ফলে ঘটনাস্থলে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিল এবং হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অনুমোদন ও নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি
সিএমসিসিআইয়ের মূল বক্তব্য হলো, বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রেলওয়ের কাছ থেকে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার পরই তারা মেলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের বক্তব্যেও অনুমোদনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে একই মাঠ ব্যবহারের জন্য অন্য পক্ষের আবেদন করায় যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
পলোগ্রাউন্ড মাঠ নিয়ে বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই মাঠ ব্যবহারের অনুমোদন, সময়সূচি, চুক্তির শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে রেলওয়ের নেতৃত্বে দুই পক্ষের মধ্যে একটি স্বচ্ছ সমাধানের দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে প্রস্তুতিকাজে হামলা, ভাঙচুর বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিরোধটি যেন কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়—এটাই এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।