শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:২৪, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২৪, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা মহানগর অঞ্চলের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত, দক্ষ ও টেকসই করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ম্যাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কের পরিপূরক ও ফিডার সার্ভিস হিসেবে এলিভেটেড মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) Bureau of Research, Testing and Consultation (BRTC)-এর মধ্যে পরামর্শক সেবার চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘Consultancy Service for Pre-Feasibility Study of Monorail Alignment Integration with Mass Transit Networks in Dhaka Metropolitan Region’ শীর্ষক এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিতে ডিটিসিএর পক্ষে অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান এবং BRTC-বুয়েটের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রফেসর ড. সাইয়্যেদ ইশতিয়াক আহমেদ স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান।
প্রস্তাবিত এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো, ঢাকা মহানগর অঞ্চলে মনোরেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করা এবং বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেলের কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ নিরূপণ করা। এ জন্য সম্ভাব্য মনোরেল রুট, অ্যালাইনমেন্ট, স্টেশন ও ডিপোর স্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে যাত্রী চাহিদা, কারিগরি উপযোগিতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হবে।
সমীক্ষার আওতায় URSTP-তে প্রস্তাবিত পাঁচটি মনোরেল রুটের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর অঞ্চলের অন্যান্য সম্ভাব্য রুটও বিশ্লেষণ করা হবে। এসব বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দুটি অগ্রাধিকারযোগ্য মনোরেল করিডোর চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে।

সম্ভাব্য করিডোর নির্ধারণের ক্ষেত্রে মনোরেল রুট ও অ্যালাইনমেন্টের উপযোগিতা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে কোথায় স্টেশন ও ডিপো স্থাপন করা যেতে পারে, সেসব স্থানও যাচাই করা হবে। মনোরেল ব্যবস্থায় সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা ও যাতায়াতের চাহিদা নির্ধারণে Travel Demand Forecasting করা হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ব্যবস্থার কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতাও পরীক্ষা করা হবে।
সমীক্ষায় মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে। এর পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে প্রস্তাবিত মনোরেল করিডোরগুলোর বাস্তবায়নযোগ্যতা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেলসহ ঢাকা মহানগরের অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মনোরেলের সংযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টিও সমীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, মনোরেলকে একটি পৃথক পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা না করে বিদ্যমান ম্যাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কের পরিপূরক ও ফিডার সার্ভিস হিসেবে কীভাবে সমন্বয় করা সম্ভব, সেটিও যাচাই করা হবে।
ঢাকা মহানগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, যাতায়াতের চাহিদা এবং যানজটের প্রেক্ষাপটে সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কার্যকর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও এই সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এবং সড়কের সীমিত প্রস্থের কারণে যেসব এলাকায় ভারী মেট্রোরেল অবকাঠামো নির্মাণে বাস্তবায়নগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসব এলাকায় মনোরেল সম্ভাব্য বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মনোরেল সাধারণত উঁচু কাঠামোর ওপর পরিচালিত হয়। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সীমিত ভূমি ব্যবহারের মাধ্যমে গণপরিবহন সংযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু অবকাঠামোগত সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করেই মনোরেল ব্যবস্থাকে উপযুক্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হবে না। এর কারিগরি উপযোগিতা, নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী ধারণক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
সরকারি অর্থায়নে এই প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী সমীক্ষাটির মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় মাস।
সমীক্ষা শেষে পাওয়া ফলাফল ঢাকা মহানগর অঞ্চলের গণপরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্ভাব্য মনোরেল করিডোর নির্বাচন, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ঢাকার বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য মনোরেল করিডোরের সমন্বয় এবং এর কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক উপযোগিতা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন পাওয়া যাবে।