শিরোনাম
প্রকাশ: ১৫:০১, ২৭ জুলাই ২০২৬
কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ভাঙচুর, ট্রেন অবরোধ, মব সৃষ্টি এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ২০২৬ দুপুরে কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে কতিপয় ব্যক্তি সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন থামিয়ে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে—এমন খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এজাহার অনুযায়ী, শোভন শ্রেণির টিকিট কেটে কয়েকজন যাত্রী জোরপূর্বক এসি বগিতে ওঠার চেষ্টা করলে ট্রেনের গার্ড ও টিটিই তাদের বাধা দেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে এক নারী পড়ে যান। এরপর ওই যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ট্রেনের স্টাফরা তাকে ফেলে দিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশের দাবি, এরপর অভিযুক্তরা ট্রেনের চেইন টেনে ট্রেন থামিয়ে দেন এবং লোকোমাস্টারকে জোরপূর্বক ট্রেন বন্ধ করতে বাধ্য করেন। পরে আরও লোকজন নিয়ে এসে ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর এবং দায়িত্বে থাকা গার্ড ও টিটিইদের খুঁজে মারধরের চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে অফিসার ইনচার্জসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি সদস্যদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে মো. পলাশ (৩৮), মো. মামুন (২৫) ও মো. শফিউল আউয়াল সুমন (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর আসামি আব্দুল্লাহ আল রশিদ জয় সহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে *দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ১৮৬, ৩৫৩, ৩৩২, ৩৩৩ ও ৫০৬ ধারায়* নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে গার্ডস কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনজুরুল হক* তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
> "বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই বর্তমানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কুষ্টিয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত রেলকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, যাত্রী ও রেলকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।