ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

রংপুর এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ, রক্তাক্ত ট্রেন পরিচালক আরিফুল ইসলাম রাজু

প্রকাশ: ১৮:৫০, ২৪ জুলাই ২০২৬

রংপুর এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ, রক্তাক্ত ট্রেন পরিচালক আরিফুল ইসলাম রাজু

রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে আবারও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে কর্তব্যরত ট্রেন পরিচালক আরিফুল ইসলাম রাজু কানে গুরুতর আঘাত পান। পাথরের আঘাতে তার কানের চামড়া কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তপাত হয়।

জানা গেছে, ট্রেনটি গাজীপুরের মৌচাক আউটার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে কয়েকজন শিশু চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। ছোড়া একটি পাথর ট্রেন পরিচালক আরিফুল ইসলাম রাজুর কানে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত হন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ধরনের ঘটনা রেলযাত্রী ও রেলকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো বিপজ্জনক অপরাধ থামছে না।

*রেলওয়ে আইনে কঠোর শাস্তির বিধান*

রেলওয়ে অ্যাক্ট, ১৮৯০-এর ১২৬ ধারা অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেন বা রেললাইনে এমন কোনো বস্তু নিক্ষেপ বা রাখা, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

১২৭ ধারা অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ফলে কেউ আহত হলে অপরাধীর ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। আর এ ধরনের ঘটনায় কারও মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া ১৩০ ধারা অনুযায়ী, পাথর নিক্ষেপকারী যদি ১২ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তবে তার অভিভাবককেও জরিমানা বা আইনি শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা সবাইকে রেললাইনের আশপাশে বসবাসকারী শিশু-কিশোরদের সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি সচেতন উদ্যোগই রক্ষা করতে পারে অসংখ্য যাত্রী ও রেলকর্মীর জীবন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন