শিরোনাম
প্রকাশ: ১০:৩৪, ২৭ জুলাই ২০২৬
রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগির ধাক্কায় একটি বাস, অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এ ঘটনায় দুই জন নিহত ও ছয় জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তার নাম মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের ময়নুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ।
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল মোল্লা জানান, রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন রাত সাড়ে ৮টার দিকে খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করছিল। ট্রেনটি রেলগেট পার হওয়ার আগেই পেছনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট অতিক্রম করায় গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যরিয়ার তুলে দেন। এসময় একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা বগিগুলোর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি ধাক্কা খেয়ে রেললাইনের পাশের খাদে চলে যায়।
শরিফুল হোসেন বলেন, আমি ওই বাসের যাত্রী ছিলাম। বাসটি ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়ায় যাচ্ছিল। খানখানাপুর পৌঁছালে একটি তেলবাহী ট্রেন যায়। সে সময় গেটম্যান ব্যারিয়ার নামিয়ে দেন। ট্রেন যাওয়ার পরে গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে বাসটি রেলগেট পার হওয়ার সময় ট্রেনের বগির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে চলে যায়। আমরা বাসে ঝুলে ছিলাম। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
বাদশা খান নামে আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বগির ধাক্কায় মাহিন্দ্রা প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চলে যায়। মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। মাহিন্দ্রার ভেতরে চালক আটকা পড়ে। তাকে ফায়ারসার্ভিস এসে উদ্ধার করে। মাহিন্দ্রা চালকসহ তিন জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় তারা।
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। গুরুতর আহত তিন জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। রেকার দিয়ে বাসটি সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, এ ঘটনায় একজন ফরিদপুর নেয়ার পথে মারা গেছেন। অপরজন ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
রাজবাড়ী রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কত সদস্যের কমিটি হবে, সে নির্দেশনা এখনও পাইনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। আর ফরিদপুর থেকে ইঞ্জিন আসছে, সেটি এসে বগি নিয়ে গেলেই লাইন ক্লিয়ার হবে।