শিরোনাম
সেলিমুর রহমান
প্রকাশ: ০৯:২৯, ৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৩০, ৬ জুন ২০২৬
ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সম্প্রতি এক টকশোতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, আন্তঃনগর ট্রেনে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে ১০০টি রাউটার বসানো হলে তার মধ্যে প্রায় ৪০টিই চুরি হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি “রেলওয়ের ডিজিটাল সেবার বড় বাধা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
রেলওয়ের সূত্র বলছে, যাত্রীসেবার মান বাড়াতে দেশের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হয়। বিশেষ করে দীর্ঘপথের ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের অনলাইন যোগাযোগ সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু যন্ত্রপাতি চুরি, ভাঙচুর এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রাউটার স্থাপন করতে সরকারকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু ট্রেনে নিরাপত্তা দুর্বল থাকায় অসাধু চক্র সুযোগ নিয়ে রাউটার খুলে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বারবার নতুন যন্ত্রপাতি কিনতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, শুধু রাউটার নয়—অনেক সময় ট্রেনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, ক্যাবল, এমনকি কোচের বিভিন্ন সরঞ্জামও চুরির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাতে ডিপো বা স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকাকালে এসব ঘটনা বেশি ঘটে।
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই একটি সাধারণ সুবিধা হয়ে উঠেছে। যাত্রীরা চলন্ত ট্রেনেই অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও কল কিংবা বিনোদনের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশেও সেই সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, ট্রেনে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো, নিরাপত্তাকর্মী বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান কঠিন হবে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতি এমনভাবে স্থাপন করার কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে সহজে খুলে নেওয়া না যায়।
দেশে ডিজিটাল রেলসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে অনলাইন টিকিটিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে, স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা ব্যবস্থার পর ফ্রি ওয়াইফাইকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে রাউটার চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় সেই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।