শিরোনাম
মোহাম্মাদ ইউসুফ, বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৩:৩১, ১৮ জুলাই ২০২৬
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১১টার দিকে র্যাব-৯ এর একটি দল আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতিকালে মালবাহী ট্রেন নং-৬০৩ আপ ইঞ্জিন (লোকো নং-২৯৩১) থেকে প্রায় ১৫ দশমিক ৭ কেজি গাঁজা ও এক বোতল নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করে। ট্রেনটিতে লোকোমাস্টার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান এবং সহকারী লোকোমাস্টার ছিলেন মো. শামীম। দুজনই সিজিপিওয়াই লোকোশেডের কর্মচারী।
এ ঘটনার পরপরই আখাউড়া রেলওয়ে থানায় শাহজাহানকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয় এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শাহজাহান ও শামীমকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই সঙ্গে আখাউড়ায় কর্মরত আরএনবি পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ট্রাফিক পরিদর্শক শাহজাহান পাটোয়ারী এবং ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (লোকো) সাগীর আহমেদ।
শাহজাহান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও একই ইঞ্জিনে দায়িত্ব পালন করা সহকারী লোকোমাস্টার (এএলএম) মো. শামীমকে মামলার আসামি না করায় রেলওয়েজুড়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। একই ঘটনায় দুজনকে রেলওয়ে সাময়িক বরখাস্ত করলেও মামলায় কেবল শাহজাহানকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'বিষয়টি তদন্তে উঠে আসবে। এ বিষয়ে মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।'
রেলওয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'ট্রেনের ইঞ্জিনে লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টার ছাড়া বাইরের কারও উঠার সুযোগ নেই। সহকারী চালক যেহেতু একই ইঞ্জিনে দায়িত্ব পালন করেছে, তাই সে দায় এড়াতে পারে না। তবে সে পালিয়ে যাওয়ায় র্যাব-৯ শুধু শাহজাহানকে আসামি করেছে।' তিনি আরও বলেন, 'সহকারী চালক শামীমকে তদন্তে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালবাহী ট্রেনটির গার্ডকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।'
এদিকে রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভিযোগ, সিজিপিওয়াই লোকোশেডের কিছু চালক ও সহকারী চালকের বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক পরিবহন ও জ্বালানি তেল চুরির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। বিভিন্ন সময়ে ট্রেনচালকদের সহযোগিতায় তেল পাচারের অভিযোগও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এবারও পালিয়ে যাওয়া সহকারী চালককে মামলার বাইরে রাখার ঘটনায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।