ঢাকা, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

উল্লাপাড়ায় রেলের জলাশয় লিজে অনিয়মের অভিযোগ, দুই মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত।

শাহ সারওয়ার বিশেষ সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৬:৫৮, ১৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫৮, ১৮ জুলাই ২০২৬

উল্লাপাড়ায় রেলের জলাশয় লিজে অনিয়মের অভিযোগ, দুই মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত।

 

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন জলাশয় ও পুকুর ইজারা (লিজ) প্রদানে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত নির্ধারিত সময় পার হওয়ার দুই মাস পরও শেষ হয়নি। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া (আরএস) এলাকার বাসিন্দা আল আমিন স্থানীয় জনগণের পক্ষে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে জলাশয় ও পুকুর ইজারা প্রদানে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনও তদন্তের আওতায় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেলভবন থেকে উপ-পরিচালক (ভূ-সম্পত্তি) আধরার হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী (প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন), পশ্চিমাঞ্চলকে। সদস্য-সচিব হিসেবে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (সদর), রাজশাহী এবং সদস্য হিসেবে সহকারী পরিচালক (ভূ-সম্পত্তি), রেলভবন, ঢাকাকে রাখা হয়।

গঠিত কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রায় ৬০ দিন অতিক্রম হলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক (ভূ-সম্পত্তি) আধরার হোসেন বলেন, "আমার কাছে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আসেনি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।"

অন্যদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বীরবল মণ্ডল জানান, এখনো সরেজমিন তদন্ত করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আগামী সপ্তাহে তদন্ত করতে যাব।"

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রেল কর্মকর্তা বক্কার দাবি করেন, "প্রচলিত নিয়ম মেনেই পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হয়েছে।"

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতায় মোট ১২টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও বাকি ৭টি পুকুর টেন্ডার ছাড়াই ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এক ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির নামে ইজারা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এ কারণে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন