শিরোনাম
প্রকাশ: ০০:৪৬, ১৬ জুলাই ২০২৬
ব্যস্ততম রেলস্টেশন হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন। তবে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এটি সরু ও অনেক উঁচু। ওভারব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সিঁড়িও নেই। ট্রেনে উঠতে ও নামতে আতঙ্কে থাকতে হয় যাত্রীদের। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন কম বয়সী ও বয়স্ক যাত্রীরা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২১ রেলওয়ে স্টেশনটি আধুনিকায়নে তিন কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্ল্যাটফর্মগুলো উঁচুকরণ, সীমানা বেষ্টনী নির্মাণ, বিজলি বাতি স্থাপন, প্ল্যাটফর্ম, শেড নির্মাণ ও লুপ লাইন ও মেইন লাইনের মাঝে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এই প্ল্যাটফর্মটিই এখন যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদ।
জানা গেছে, লাইনের মাঝে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সাড়ে চার ফুট চওড়া ও সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার প্ল্যাটফর্মটির নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য এক হাজার ২২৫ ফুট। তবে প্ল্যাটফর্মটিতে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভিড় বাড়লে উভয় পাশে যাত্রী পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ট্রেন এলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ট্রেন থেকে নামা যাত্রীরা কীভাবে মূল টার্মিনালের দিকে যাবেন তা নিয়েও বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। অপেক্ষাকৃত কম বয়সী যাত্রীদের উঁচু প্ল্যাটফর্ম থেকে লাফিয়ে নেমে রেললাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে বহির্গমন পথে যেতে হয়। বয়স্ক যাত্রীদের নামাতে হয় কোলে করে। বহির্গমন পথে যেতে হয়।
‘ট্রেন থেকে নামা যাত্রীরা কীভাবে মূল টার্মিনালের দিকে যাবেন তা নিয়েও বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। অপেক্ষাকৃত কম বয়সী যাত্রীদের উঁচু প্ল্যাটফর্ম থেকে লাফিয়ে নেমে রেললাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে বহির্গমন পথে যেতে হয়। বয়স্ক যাত্রীদের নামাতে হয় কোলে করে। অথবা দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বহির্গমন পথে যেতে হয়’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেল কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্ল্যাটফর্মটির নকশা ক্রটিপূর্ণ। এটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে ওঠেনি। প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ওভারব্রিজের সংযোগ সিঁড়িও দেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, নকশা পরিবর্তন করে প্ল্যাটফর্মটি প্রশস্ত করা উচিত। এর সঙ্গে সিঁড়ি দেওয়া প্রয়োজন।
স্টেশনের বহির্গমন গেটে কথা হয় যাত্রী কোয়েলিয়া বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক উঁচু প্ল্যাটফর্ম। এটি অতিক্রম করা খুবই কষ্টের ব্যাপার। প্ল্যাটফর্মটি দেখলে মনে হবে এটি কোনো দ্বীপ বা ছিটমহল।’
এনজিও কর্মী শেখ অসীম বলেন, ‘স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি প্রশস্ত করা জরুরি। সংযোগ সিঁড়ি স্থাপন করতে হবে। তা নাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়বেন ট্রেনের যাত্রীরা।’
সৈয়দপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘২ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি যাত্রীবান্ধব নয়। সিস্টেমেটিকভাবে এটি নির্মাণ হয়নি। তবে প্ল্যাটফর্মকে যুক্ত করে স্টেশনের পূর্বদিকে কিছু সিঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা চলছে। ওভারব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সিঁড়ি স্থাপন করা যায় কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
‘২ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি যাত্রীবান্ধব নয়। সিস্টেমেটিকভাবে এটি নির্মাণ হয়নি। তবে প্ল্যাটফর্মকে যুক্ত করে স্টেশনের পূর্বদিকে কিছু সিঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা চলছে। ওভারব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সিঁড়ি স্থাপন করা যায় কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে’
সরেজমিন দেখা যায়, শুধু ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম নয়, স্টেশনটিতে রয়েছে নানান সমস্যা। প্ল্যাটফর্মে ফ্যান রয়েছে অপ্রতুল। ফলে গরমে কষ্টের সীমা থাকে না যাত্রীদের। স্টেশনের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ওয়েটিং রুমেও নেই পর্যাপ্ত আসন। ফলে বেশিরভাগ যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মেই দাঁড়িয়ে কিংবা মেঝেতে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কোনো যাত্রীছাউনি নেই। এ কারণে বৃষ্টির দিনে ভিজেই ট্রেনে ওঠানামা করতে হয় যাত্রীদের।
তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে যশোরে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন শাহনাজ পারভীন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্ল্যাটফর্মের ওয়েটিং রুমেও বসার সুযোগ হয়নি। বাধ্য হয়ে দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি।’
চিলাহাটি ট্রেনে ঢাকাগামী যাত্রী তানভীর আহম্মেদ সুজনের ভাষ্য, আধুনিকায়নের নামে এত টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। কারণ প্রকল্পটি যাত্রীদের জন্য আর্শীবাদের পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেন সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ রতন।
তিনি বলেন, ‘স্টেশনটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। এই রুটে প্রতিদিন ১২টির মতো ট্রেন চলাচল করে। সবদিক বিবেচনায় ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি যাতায়াত উপযোগী করা উচিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’