ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

১২ বছরেও মেলেনি পদোন্নতি: যোগ্যতা অর্জনের পরও বঞ্চিত রেলওয়ের ২০তম গ্রেডের পোর্টার, গেটম্যান, ওয়েটিং রুম বেয়ারার ও কল বয়

হোসাইন রাজিব, পশ্চিমাঞ্চল প্রতিনিধি, রেল নিউজ ২৪

প্রকাশ: ২০:৩২, ১৩ জুলাই ২০২৬

১২ বছরেও মেলেনি পদোন্নতি: যোগ্যতা অর্জনের পরও বঞ্চিত রেলওয়ের ২০তম গ্রেডের পোর্টার, গেটম্যান, ওয়েটিং রুম বেয়ারার ও কল বয়

বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০তম গ্রেডভুক্ত পোর্টার, গেটম্যান, ওয়েটিং রুম বেয়ারার ও কল বয় পদে কর্মরত অসংখ্য কর্মচারী প্রায় ১২ বছর ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগবিধি অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন এবং জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও তাদের পদোন্নতির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম) এর কার্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহী থেকে স্মারক নং-৫৪.০১.৮১০০.১৫৪.১০.০৩৭.১৯-১০৫, তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের পয়েন্টসম্যান, শান্টিং পোর্টার/শান্টিং জমাদার, মার্কম্যান ও কার্পেন্টার পদে পদোন্নতির জন্য ফিডার পদে কর্মরত কর্মচারীদের সমন্বিত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করা হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, পদোন্নতির জন্য কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৮,৮০০–২১,৩১০ টাকা (১৮তম গ্রেড) বেতন কাঠামোর আওতায় বিবেচনা করা হবে। এছাড়া নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১-এর বিধি ৪(২) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রেণির প্রারম্ভিক পদে নিয়মিত যোগদানের তারিখের ভিত্তিতে সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ গেজেট (২২ নভেম্বর ২০২০)-এ প্রকাশিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী পয়েন্টসম্যান পদে পদোন্নতির জন্য গেটকিপার বা পোর্টার পদে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফিডার পদেও নির্ধারিত চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জনকারী কর্মচারীরা পদোন্নতির জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা।

তবে ভুক্তভোগী কর্মচারীদের অভিযোগ, নিয়োগবিধিতে মাত্র পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলেই পদোন্নতির যোগ্য হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক কর্মচারীর চাকরির বয়স ১০, ১১ এমনকি ১২ বছর অতিক্রম করেছে। তারপরও তারা এখনও একই পদে কর্মরত রয়েছেন এবং পদোন্নতির কোনো আদেশ পাননি।

কর্মচারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পদোন্নতির জন্য সমন্বিত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করা হলেও প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হতে চললেও তালিকাভুক্ত কর্মচারীদের কারও পদোন্নতির আদেশ এখনো জারি হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রেডে কর্মরত থেকে তারা আর্থিক সুবিধা, পদমর্যাদা ও চাকরিজীবনের স্বাভাবিক অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে ভুক্তভোগী কর্মচারীরা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রচলিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী পয়েন্টসম্যান পদের ৫০ শতাংশ শূন্যপদ বিভাগীয় (Departmental Promotion) পদোন্নতির মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় পদোন্নতি কার্যকর না করে ধারাবাহিকভাবে সরাসরি নিয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, সাম্প্রতিক তিনটি পৃথক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় এক হাজার পয়েন্টসম্যান সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময়ে বিভাগীয় কোটায় কর্মরত যোগ্য পোর্টার, গেটম্যান, ওয়েটিং রুম বেয়ারার ও কল বয় কর্মচারীদের পদোন্নতির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে নিয়োগবিধিতে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ বিভাগীয় কোটার সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, যদি নিয়োগবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় কোটার পদগুলো নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ শত শত কর্মচারী ইতোমধ্যেই পদোন্নতির সুযোগ পেতেন। কিন্তু বিভাগীয় পদোন্নতি কার্যত স্থবির থাকায় তারা আর্থিক, পেশাগত ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় অনেক কর্মচারীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত পদোন্নতির কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিয়োগবিধি অনুযায়ী যোগ্য কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে পদোন্নতির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকার কারণ, বিভাগীয় কোটায় শূন্যপদের বর্তমান অবস্থা এবং সাম্প্রতিক সরাসরি নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন