শিরোনাম
স্বপন কুমার সিং, বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০০:১৯, ২২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০০:১৯, ২২ জুন ২০২৬
"সিলেটের রেলব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ডিসি মো. সারওয়ার আলম
টিক
সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম স্বল্প সময়ের দায়িত্বকালেই রেলখাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলে রেলের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল টিকিট কালোবাজারি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং অনলাইনে টিকিট উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ। সাধারণ যাত্রীরা যখন বৈধ উপায়ে টিকিট না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন, তখন বিষয়টিকে প্রশাসনিক অগ্রাধিকারে এনে মাঠে নামেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
তাঁর নেতৃত্বে আলোচনায় আসে বহুল প্রশংসিত টিকিট যার, ভ্রমণ তার নীতি। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল টিকিট ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত যাত্রীর হাতে টিকিট পৌঁছে দেওয়া। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইয়ের মাধ্যমে অন্যের টিকিটে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়।
শুধু নির্দেশনা দিয়েই তিনি দায়িত্ব শেষ করেননি বরং নিজে রেলস্টেশনে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, অভিযোগ শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। বিষয়টির পেছনে কোনো সিন্ডিকেট বা কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্তের নির্দেশ দেন।
তাঁর নির্দেশনায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে টিকিটে নামের অমিল, পরিচয়পত্র ছাড়া ভ্রমণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে দালালচক্রের ওপর চাপ তৈরি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা প্রশাসনের দৃশ্যমান উপস্থিতি অনুভব করতে শুরু করেন।
সিলেট-ঢাকা রুটে প্রতিদিন বিপুল যাত্রীচাপের বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেন। সড়কপথের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে অতিরিক্ত স্পেশাল ট্রেন চালু, ট্রেনের বগি বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।
রেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল সরাসরি মাঠকেন্দ্রিক। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন, উদ্ধার তৎপরতা তদারকি, দ্রুত রেল চলাচল স্বাভাবিক করা এবং তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনার মাধ্যমে প্রশাসনিক তৎপরতার নজির স্থাপন করেন।
বর্তমানে তাঁকে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হলেও সিলেটের অনেক রেলযাত্রীর কাছে তিনি একজন ব্যতিক্রমী প্রশাসক হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কারণ তিনি রেলকে শুধুমাত্র একটি পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে দেখেননি বরং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ ভ্রমণ এবং স্বচ্ছ সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর শুরু করা উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সিলেট অঞ্চলে রেলের টিকিট কালোবাজারি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং যাত্রীবান্ধব রেলসেবা প্রতিষ্ঠা আরও সহজ হবে।