ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

জামালগঞ্জ স্টেশন ক্লোজ ডাউন প্রত্যাহার ও দুই আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে রেল মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রতিমন্ত্রীর

মো: মোতাহার হোসেন সরকার( স্টাফ রিপোর্টার)।

প্রকাশ: ১৪:৪৮, ৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৫১, ৪ জুন ২০২৬

জামালগঞ্জ স্টেশন ক্লোজ ডাউন প্রত্যাহার ও দুই আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে রেল মন্ত্রণালয়ে চিঠি  প্রতিমন্ত্রীর

গত ২৭ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল বারী এমপি জামালগঞ্জ রেলস্টেশন পুনরায় চালু এবং ঢাকাগামী ও খুলনাগামী দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর একটি চিঠি প্রদান করেছেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন একটি ঐতিহ্যবাহী ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। ভৌগোলিক অবস্থান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে স্টেশনটির গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। ১৮৫৩ সালের দিকে ব্রিটিশরা যখন চিলাহাটি-বেনাপোল রেললাইন নির্মাণ করে, তখন পর্যায়ক্রমে সান্তাহার, আক্কেলপুর ও জামালগঞ্জ স্টেশন নির্মিত হয়।

জামালগঞ্জ থেকে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার, যেখানে জয়পুরহাট ও আক্কেলপুর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। ১৭০০ সালের দিকে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জামালগঞ্জ বাজার প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

স্টেশনের উত্তরে জয়পুরহাট এবং দক্ষিণে আক্কেলপুর রেলস্টেশন অবস্থিত। কৃষি কাঁচামাল উৎপাদনে জামালগঞ্জের সুখ্যাতি রয়েছে। ব্যবসায়িক অঞ্চল হওয়ায় একসময় উত্তরবঙ্গের প্রথম সারির বৃহৎ প্ল্যাটফর্মসমৃদ্ধ স্টেশনগুলোর মধ্যে জামালগঞ্জ ছিল অন্যতম। এলাকায় রয়েছে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লাখনি, সরকারি হাঁস-মুরগি খামার, হর্টিকালচার সেন্টার, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

চিঠিতে আরও বলা হয়, একসময় পণ্য পরিবহনে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান ভরসা ছিল রেলপথ। বর্তমানে স্টেশনটিতে আপ ও ডাউন লাইনে রকেট মেইল এবং আন্তঃনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন দ্বিতীয় বা মেইন লাইনে দাঁড়ালেও দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি 'ক্লোজিং ডাউন' অবস্থায় রয়েছে।

বিগত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে স্টেশনটি কার্যত অচল থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। স্টেশনে কোনো জনবল না থাকায় ট্রেনগুলো প্ল্যাটফর্মবিহীন দুই নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ফলে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামায় মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে মানুষ বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে এবং রেলওয়ে সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, জামালগঞ্জ স্টেশন পুনরায় চালু করা হলে শুধু জামালগঞ্জ নয়, নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন, ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়ন এবং আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, জামালগঞ্জ স্টেশন চালু হলে ঐতিহাসিক সোমপুর মহাবিহারে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে, পর্যটন খাতের প্রসার ঘটবে, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি পাবে এবং রেলওয়ের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

চিঠির শেষে তিনি জামালগঞ্জ রেলস্টেশনের 'ক্লোজিং ডাউন' প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু এবং ঢাকাগামী একটি ও খুলনাগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন