ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

৩ আষাঢ় ১৪৩৩, ০১ মুহররম ১৪৪৮

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী - যেখানে মিশেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৫টি রেলপথ

আল ইমরান, গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১১:৪০, ১৭ জুন ২০২৬

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী - যেখানে মিশেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৫টি রেলপথ

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় অবস্থিত কাশিয়ানী জংশন রেলওয়ে স্টেশন দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ভাঙ্গা জংশনের পর এটি দক্ষিণ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জংশন স্টেশন। বাংলাদেশের একমাত্র জংশন হিসেবে এখান থেকে ৫টি ভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল করে, যা একে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে ১৯ শতকের শেষ দিকে নির্মিত কাশিয়ানী স্টেশন তৎকালীন বেঙ্গল প্রভিন্সের রেল নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কৃষিপ্রধান গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর অঞ্চলের ধান, পাট ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য স্টেশনটি দ্রুত গুরুত্ব পায়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশনটিকে আধুনিকায়ন করে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প চালু হওয়ার পর কাশিয়ানী জংশনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এখন এটি ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বেনাপোল, ঢাকা-যশোর রুটের মেইন ট্রানজিট পয়েন্ট।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কাশিয়ানী জংশনই দেশের একমাত্র স্টেশন যেখান থেকে ৫টি ভিন্ন দিকে রেলপথ গেছে:
১. উত্তর দিকে: ভাঙ্গা জংশন হয়ে ঢাকা-পদ্মা সেতু রুট
২. দক্ষিণ-পশ্চিমে: গোপালগঞ্জ হয়ে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস রুট 
৩. পশ্চিমে: লোহাগড়া হয়ে নড়াইল-যশোর-বেনাপোল রুট
৪. দক্ষিণে: চাপড়া হয়ে খুলনা রুট
৫.দক্ষিণ-পূর্বে: কালনা ঘাট হয়ে ভবিষ্যৎ বরিশাল রেল সংযোগ রুট

এই ৫ মুখী সংযোগের কারণে কাশিয়ানীকে "দক্ষিণ বাংলার রেল ক্রসরোড" বলা হয়। প্রতিদিন সুন্দরবন, চিত্রা, বেনাপোল, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসসহ ১৫+ আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন এখানে যাত্রাবিরতি করে।

পদ্মা সেতু রেললিংক চালু হওয়ার পর স্টেশনটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ডিসপ্লে, টিকিট কাউন্টার যুক্ত হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ হাজার যাত্রী এখান থেকে যাতায়াত করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, জংশন হওয়ায় স্টেশনকে ঘিরে কাশিয়ানী বাজারের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। হোটেল, চায়ের দোকান, পরিবহন ব্যবসা বেড়েছে।

কাশিয়ানী স্টেশন মাস্টার বলেন, "৫ রুটের ট্রেন সামলানো চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমাদের কর্মীরা দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। পদ্মা সেতুর পর যাত্রীচাপ ৩ গুণ বেড়েছে।"

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, কালনা সেতু দিয়ে বরিশাল রেল সংযোগ চালু হলে কাশিয়ানী জংশনের গুরুত্ব আরও বাড়বে। তখন এটি হবে ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ট্রানজিট হাব।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলপ্রেমীরা স্টেশনটির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও আরও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন