শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৩১, ২১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩২, ২১ জুন ২০২৬
লোকসান কমাতে ও রাজস্ব বাড়াতে আরো ১১টি ট্রেন ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ইজারার অনুমোদন চেয়ে রেল সদর দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ছয়টি আন্তর্জাতিক, ৬২টি আন্তঃনগর, ৫৫টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন এবং ১২টি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে বেসরকারি অপারেটরদের কাছে ২৪টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন ইজারা দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আয় করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমাঞ্চল রেল বরাবর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৭৬ লাখ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় করেছে ৬৪৯ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকার বিপরীতে আয় করেছে ৬২১ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ১০ মাসে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ৮২৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৫৬৬ কোটি টাকা।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আনসার আলী বলেন, “অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের ফলে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া লোকাল ট্রেনের অনেক যাত্রী টিকিট কিনতে চান না। কেনেন না। তাই এখান থেকে আয় কম হয়। এ কারণে আমরা ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।“
পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তাই সব মেইল ও লোকাল ট্রেনে সঠিকভাবে টিকিট পরীক্ষা সম্ভব হয় না। এ কারণে অনেক রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।”
জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সব ট্রেনের আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্মিলিতভাবে তৈরি করা হয়। প্রতিটি মেইল বা লোকাল ট্রেনের বছরে কত লোকসান হয়, তা দেখানোর জন্য কোনো পৃথক হিসাব নেই। ”
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সদর দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর প্রক্রিয়া করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ট্রেনগুলো ইজারা দেওয়া হবে। ”
এদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন জানিয়েছেন, বেসরকারি করণের ফলে সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, “যদি শুধু কয়েকজন ব্যবসায়ীর সুযোগ তৈরি করাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে এটিকে আমি প্রশ্নবিদ্ধ করব। কারণ, বেসরকারি পরিচালনাকারীরা লাভজনকভাবে এই ট্রেনগুলো চালাতে পারে এবং এরপরেও সরকারকে ইজারা ফি প্রদান করে। তাহলে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজে কেন তা করতে পারে না?”
শফি উদ্দিন বলেন, “সরকার স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষেবা খাতের মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলোতে ভর্তুকি দেয়। রেল পরিবহনকেও একইভাবে দেখা উচিত। উন্নত কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনবলের ঘাটতি মোকাবিলা করা উচিত। দুর্বল শাসন ও দুর্নীতি রেলওয়ের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে রয়ে গেছে।”