ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

৩ আষাঢ় ১৪৩৩, ০১ মুহররম ১৪৪৮

নতুন ১০ জেলায় রেল সম্প্রসারণ: নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনায় গোপালগঞ্জ, খুলছে উন্নয়নের নতুন দ্বার

আল ইমরান, গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১১:২৭, ১৭ জুন ২০২৬

নতুন ১০ জেলায় রেল সম্প্রসারণ: নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনায় গোপালগঞ্জ, খুলছে উন্নয়নের নতুন দ্বার

দেশের সামগ্রিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ৬৪টি জেলাকেই ধাপে ধাপে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নতুন করে ১০টি জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা গোপালগঞ্জও আলোচনায় এসেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নীতিগত আলোচনায় এ সম্ভাবনার কথা উঠে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলায় রেল সংযোগ থাকলেও বাকি ১৫টি জেলা এখনও রেল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলাকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে নতুন ১০টি জেলায় রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রুটে কমিউটার ট্রেন চালু ও ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলছে।

ঐতিহাসিকভাবে গোপালগঞ্জ জেলা পূর্ণাঙ্গ রেল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলেও কাশিয়ানী জংশন স্টেশনকে কেন্দ্র করে আংশিক সংযোগ রয়েছে। তবে জেলা সদর ও অন্যান্য উপজেলায় সরাসরি রেল সংযোগ না থাকায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হয়। নতুন পরিকল্পনায় গোপালগঞ্জকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

রেল যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোপালগঞ্জে রেল সংযোগ চালু হলে আঞ্চলিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে ১. ঢাকার সঙ্গে যাতায়াত সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। ২. কৃষি ও শিল্প পণ্য পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। ৩. শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণে মানুষের ভোগান্তি কমবে। ৪. টুঙ্গিপাড়ার জাতীয় গুরুত্বের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে এটি বড় পদক্ষেপ। কাশিয়ানী উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, "ট্রেন চালু হলে পণ্য পরিবহনের খরচ অর্ধেক কমে যাবে। ঢাকার বাজারে গোপালগঞ্জের পণ্য দ্রুত পৌঁছাবে। এটা আমাদের জন্য মাইলফলক।"

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "৬৪ জেলায় রেল সংযোগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গোপালগঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকল্প প্রস্তাব ও অর্থায়নের উপর নির্ভর করছে।"

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এর সঙ্গে রেল নেটওয়ার্ক যুক্ত হলে গোপালগঞ্জসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প ও পর্যটন খাতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করে গোপালগঞ্জকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ঘোষণা আসবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন