ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

১ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রেন পরিচালক দ্বারা যাত্রী লাঞ্চিত রেলপ্রতিমন্ত্রীর তড়িৎ একশন: ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:০৮, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৯, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ট্রেন পরিচালক দ্বারা যাত্রী লাঞ্চিত রেলপ্রতিমন্ত্রীর তড়িৎ একশন:  ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

পারাবত এক্সপ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেন পরিচালক জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে এক যাত্রী ও তাঁর বোনকে অশালীন ভাষায় গালাগাল, বোনকে হেঁচকা টান দেওয়া, মারধরের জন্য লোকজনকে উসকানি দেওয়া এবং প্রায় চার ঘণ্টা স্টেশন মাস্টারের কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ অক্টোবর সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী মো. রাশেদ তপন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্র।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর পারাবত এক্সপ্রেসের (ট্রেন নম্বর ৭১০) মাধ্যমে সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন রাশেদ তপন ও তাঁর ছোট বোন চিকিৎসক নূসরাত। ট্রেনে তাঁদের জন্য বরাদ্দ DHA-17 ও DHA-18 নম্বর আসন দুটি ভাঙা থাকায় সেগুলোতে বসে ভ্রমণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি তাঁরা প্রথমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টারকে জানান। পরে স্টেশন মাস্টার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেন পরিচালক জসিম উদ্দীনকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন।

রাশেদ তপনের অভিযোগ, ট্রেন পরিচালক ঘটনাস্থলে গিয়ে আসন দুটি ভাঙা দেখতে পেলেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেননি। বরং তিনি তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসনগুলোর সমস্যা সমাধানের দাবি জানালে ট্রেন পরিচালক তাঁর বোনকে হেঁচকা টান দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁদের দুজনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। পাশাপাশি স্টেশনে অবস্থানরত লোকজনকে তাঁদের মারধর করার জন্য উসকানি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন রাশেদ তপন।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কয়েকজন তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। তবে দায়িত্বে থাকা পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁরা শারীরিকভাবে অক্ষত থাকেন। পরে তাঁদের স্টেশন মাস্টারের কক্ষে নিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় এবং প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশেদ তপন জানান, এ ঘটনার কারণে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরতে পারেননি। পরে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসে করে পরদিন ১১ অক্টোবর ঢাকায় পৌঁছান।

এ ঘটনায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রেন পরিচালক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ট্রেন পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রাশেদ তপন।

এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম রেল নিউজকে বলেন, “ডিজি মহোদয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন